ঢাকা: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি রোববার থেকে রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলের ৩০ কোম্পানির সব বাস ই-টিকিটিংয়ের অধীনে চলাচল করবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল। ২৩টি কোম্পানির বাস ই-টিকিটিংয়ের আওতায় এলেও বাকিগুলো আসেনি।

কয়েকটি বাস কোম্পানির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
রোববার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলের গাড়ির রুটগুলোতে সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

মিরপুর থেকে গাবতলি রুটে চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের সুপারভাইজার রাজু আহমেদ বলেন, কাল থেকে আমাদের বাসে চালু হওয়ার কথা মেশিনের মাধ্যমে ভাড়া কাটা। আমরা তো শিখিনি, এটা শেখাতে হবে আমাদের।

না হলে বুঝবো কীভাবে! মিরপুর থেকে গাবতলী রুটে আলিফ পরিবহনের সাথে চলে শতাব্দী পরিবহন। এ বাসটিতেও চালু হয়নি ই-টিকিটিং।

এ রুটে চলাচলকারী যাত্রী শাহিন হোসেন বলেন, চেকার দেখিয়ে অনেক ভাড়া নেয়। ই-টিকেটিং চালুর কথা থাকলেও চালু হয়নি।

মিরপুর থেকে রামপুরা যাতায়াতকারী তিন বাস নূর-ই-মক্কা, রাজধানী ও আছিম পরিবহন ই-টিকিটিংয়ে আসার পরে বাসের সংখ্যা কমিয়ে দেয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়তে হয় বাস কোম্পানিগুলোকে। এ রুটে বাসের সংখ্যাও স্বাভাবিক হয়নি।

এ রুটে চলাচলকারী সাগর হোসেন বলেন, যথেষ্ট বাস নেই। রাস্তায় হুড়োহুড়ি করে বাসে উঠতে হয়।

এছাড়া মিরপুর থেকে যাতায়াতকারী বিকল্প অটো সার্ভিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে একদিনের ব্যবধানেই ভাড়া বাড়িয়ে ফেলার। যাত্রী সাইদ হোসেন বলেন, গতকাল মিরপুর-১২ নম্বর থেকে ফার্মগেট গিয়েছিলাম ২০ টাকা ভাড়ায়, আজকে সেই ভাড়া নিয়েছে ২৩ টাকা।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ ভূইয়া হুমায়ুন কবির তপন বলেন, চার্টে আগে ২২ টাকা ভাড়া ছিল, ২০ টাকা নিতো। কিন্তু ই-টিকিটিংয়ে কম নেওয়ার সুযোগ নেই।

অনেক বাস ই-টিকিটিংয়ের আওতায় আসেনি, কেন জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির তপন বলেন, প্রথম দিন সবগুলো না চললেও আগামীকাল থেকে সব বাসই চলবে ই-টিকিটিংয়ে।

এর আগে, গণপরিবহনে ই-টিকিটিং পদ্ধতি চালুর বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্যাহ বলেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকার সব গাড়িতে ই-টিকিটিং চালু করা হবে। ঢাকার ও চট্টগ্রামের শহরতলীসহ মোট ৯৭টি কোম্পানির গাড়ি ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ই-টিকিটিংয়ের আওতায় আসবে।

ই-টিকিটিংয়ের আওতায় সবাইকেই আসতে হবে মন্তব্য করে পরিবহন মালিকদের এই নেতা বলেন, ই-টিকিটিংয়ে অসম প্রতিযোগিতা থাকবে না। চুক্তিভিত্তিক গাড়ি চলাচল বন্ধ হবে। পরিবহন শ্রমিকরা বেতন সিস্টেমের আওতায় চলে আসবে। যত্রতত্র গাড়ি থামানো এবং প্রতিযোগিতা বন্ধে সেন্ট্রাল মনিটরিং সেল গঠন করা হবে।

প্রসঙ্গত, বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন কমিটির উদ্যোগে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা নগর পরিবহনের বাসগুলোতে সর্বপ্রথম ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই পরিবহনের বাসে ই-টিকিট নিয়ে যাত্রীরা সরকারের নির্ধারিত ভাড়ায় যাতায়াত করছে।