উজিরপুর প্রতিনিধিঃ

বরিশালের উজিরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে ৫০তম মহান বিজয় দিবস। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সংস্থা নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। সকাল ৮ টায় উপজেলা পরিষদের সামনে বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাহে আলম তালুকদার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পরে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা আওয়ামীলীগ, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, উপজেলা প্রেসক্লাব, জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কাস পার্টি এবং উপজেলা বিএনপি ০৯ নং সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর এম এ জলিলের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। কর্মসূচি হিসেবে সরকারি ডব্লিউ বি ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে সকাল সাড়ে ০৮ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস, মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ আলী আর্শাদ। এসময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি জয়দেব চক্রবর্তী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দিন বেপারি, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ সরদার, ডেপুটি কমান্ডার হারুন অর রশীদসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বৃন্দ। বিজয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাসের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা প্রদর্শন ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনে অংশ নেন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ভিডিপি, বাংলাদেশ স্কাউট এবং স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ মজিদ সিকদার বাচ্চুর বক্তব্য শেষে কুচকাওয়াজে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন প্রতিনিধি না থাকায় এবং বসার জন্য তাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না করায় উপজেলা প্রশাসনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে কুচকাওয়াজ মাঠ ত্যাগ করে চলে যান মুক্তিযোদ্ধাররা । পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পুনরায় আবার মাঠে এসে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে মাঠ ত্যাগ করেন।

বিকালে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং সারাদেশের ন্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে শপথবাক্য পাঠান করেন প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। এরপর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।