উজিরপুর(বরিশাল) প্রতিনিধিঃ

বরিশালের উজিরপুরে তিন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গত ১৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার হারতা, বামরাইল ও গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই দলদয় সমর্থন পেতে দৌড় ঝাপ শুরু করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে তিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নৌকা পেতে উজিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্য্যালয়ে শোডাউন দিয়ে জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছে। এর ভিতর অনেকে ডেমি প্রার্থী হিসাবে জীবন বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। হারতায় ১৩ জন, বামরাইলে ৯ জন এবং গুঠিয়া ১২ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন।
ফ্রন্ট লাইনের দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নিজের আনুগত্য নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের কাছে লিফলেট আকারে ছাপিয়ে বিতরন করে দোয়া প্রার্থনা করছেন। হারতা ইউনিয়ন পরিষদের নৌকা মনোনয়ন প্রত্যাশী চেয়ারম্যান প্রার্থী হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ডাঃ হরেন রায়, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সুনিল বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক অমল মল্লিক, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক সব্য সাচী হালদার লিটু, আওয়ামীলীগ নেতা খগেন মন্ডল, মিন্টু লাল মজুমদার, কৃষ্ণ কান্ত বাড়ৈ, খোকন চন্দ্র হালদার, সিরাজুল ইসলাম, অভিলাস হালদার, বরুন চক্রবর্তী ও প্রিন্স বিশ্বাস। এদের ভিতরে ওই ইউনিয়নে আলোচনায় রয়েছে বর্তামন চেয়ারম্যান ডাঃ হরেন রায় তিনি বর্তমান সরকারের নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি সুনিল বিশ্বাসও সাবেক ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান থাকায় তার নাম রয়েছে এবং অমল মল্লিক ৩০ বছর পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত তিনি কোন জনপ্রতিনিধি হিসাবে নিজের নাম লিখাতে না পারায় দলীয়ও কিছু নেতাকর্মীরা এবার তাকে নিয়েও মাঠে নেমেছেন৷ গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদে নৌকা প্রত্যাশী হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ডাঃ দেলোয়ার হোসেন, ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস ছত্তার মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক এস.এম.মিন্টু, বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আওরঙ্গজেব হাওলাদার, উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম-আহব্বায়ক রফিকুল ইসলাম শিপন মোল্লা, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-সম্পাদক এনামুল হক শাহীন, আওয়ামীলীগ নেতা আতাউর রহমান খান, বাবুল ফকির, সিরাজুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা সাকলাইন খান, মহিলালীগ নেত্রী নিনা নাজনিন। ওই ইউনিয়নে আলোচনায় রয়েছে বর্তামান ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি ওই ইউনিয়নে টানা ৪ বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভপতি আব্দুস ছত্তার মোল্লা প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা দলীয় নেতাকর্মীদের ভিতর তার কোন গ্রুপ নাই তিনি সমন্বয় করে সকলকে সাথে দল পরিচালনা করায় এবারের মনোনয়ন আলোচনা রয়েছেন তিনি। বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য আওরঙ্গজেব হাওলাদার গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে বেশ সাড়া ফেলেছিলেন পরবর্তীতে শেষ মুহুর্তে দলীয় হাইকমান্ডের চাপে বসে যান। তাই তাকে নিয়েও চলছে আলোচনা। অপরপ্রার্থী উপজেলা শ্রমিকলীগের যুগ্ম-আহব্বায়ক শিপন মোল্লা। তার পিতা মরহুম রশিদ মোল্লা ওই ইউনিয়নের একাধিকবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর থেকে তাদের পরিবার থেকে কেউ ওই চেয়ারম্যান প্রার্থী হননি এবার তার মেঝো ছেলে শিপন মোল্লা চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের ভিতর তাকে নিয়ে চলছে আলোচনা। বামরাইল ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রতাশী হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউসুফ হাওলাদার, ওই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গৌরাঙ্গ লাল কর্মকার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান কবির, আওয়ামীলীগ নেতা বীর এস. এম কুদ্দুস, যুবলীগ নেতা আতিকুর রহমান পলাশ, জাকির হোসেন হাওলাদার, আলামিন হাওলাদার, আসাদুজ্জামান সজিব ও আব্দুস সালাম। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ইউসুফ হাওলাদার। তিনি টান ২য় বার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন । তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার বিএনপির দূর্গ হিসাবে পরিচিত বামারাইল ইউনিয়ন কে আওয়ামীলীগের দূর্গ গড়ার চেষ্টা করেছেন। তবে তার বিকল্প দলীয় প্রার্থী খুজলেও এই রকম প্রভাবশালী লোক না পাওয়ায় কিছুটা অন্যান্য মনোনয়ন প্রতাশী প্রার্থীদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি। এছড়া ওই ইউনিয়নে আলোচনায় রয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভপতি সাবেক চেয়ারম্যান গৌরাঙ্গ লাল কর্মকার এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজানুর রহমান কবির।
এ বিষয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দিন বেপারি জানান, দক্ষিণ অঞ্চলের আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ যেভবে আমাদের দিক নির্দেশনা দিবে ওই ভাবে প্রার্থীদের তালিকা করে তাদের কাছে জমা দিবো। তবে আমরা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করার জন্য দলের হাইকমান্ডের কাছে প্রস্তাব করবো। তিন ইউনিয়নে ৩৪ জন মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে বলেন, এত বড় একটা দল সেখানে বেশি প্রার্থী হবে এটাই স্বাভাবিক। যত বেশিই প্রার্থী হলেও কোন সমস্যা নাই কারন যারা দল করে তাদের প্রত্যকের সম্পর্কে উপজেলা আওয়ামীলীগ অকিবহাল। তাই আমাদের প্রার্থী সিলেক্ট করতে সমস্যা হবে না।