উজিরপুর উপজেলায় ধর্ষন চেষ্টার মামলার আসামী গ্রেপ্তার করতে গিয়ে হামলায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এছাড়াও ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে ধর্ষন চেষ্টার মামলার আসামীকে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গুঠিয়া ইউপির কাকড়াধারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলো- উজিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নিজাম উদ্দিন ও সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নুরুল আমিন। তাদেরকে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার এসআই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় নামধারী ৮সহ অজ্ঞাতনামা আরো ২০/২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও মামলার এক আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে হলো- উপজেলার কাকড়াধারী এলাকার বাসিন্দা রুবেল। তাকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে কাকড়াধারী গ্রামের বাসিন্দা ও গুঠিয়া আইডিয়াল কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের চেষ্টা করে বখাটেরা। এ ঘটনায় ছাত্রী ধর্ষনের চেষ্টাকারী বখাটে ওই এলাকার হাবীব রাঢ়ীর ছেলে রবিউল ও তার ভাই সবুজকে আসামী করে উজিরপুর মডেল থানায় মামলা করে। এ নিয়ে ওই এলাকার সাইফুল রাঢ়ীর বাড়ীতে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে মামলার বাদী ছাত্রীকে জোর করে হাজির করা হয়। তখন ছাত্রী বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করে। খবর পেয়ে এসআই নিজামউদ্দিন, এএসআই নুরুল আমিনসহ দুই জন কনষ্টেবল বাড়ীতে যায়। তারা মামলার দুই আসামীকে পেয়ে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে রওনা হলে আসামীর স্বজনরা পুলিশের চার সদস্যর উপর হামলা করে। এতে এসআই ও এএসআই আহত হয়। এ সুযোগে হামলাকারীর দুই আসামীকে ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছেন।

হামলার শিকার এএসআই নুরুল আমিন জানিয়েছেন, আসামী সবুজ ও রবিউলের মামা মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানা এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন ও সবুজের ভায়রা সোহেলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা আতর্কিত হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা তাদের মারধর করে গায়ের পোশাক ছিড়ে ফেলেছে। তাদের উপর হামলার খবর পেয়ে গুঠিয়া ক্যাম্পের পুলিশ এলে আসামীরা পালিয়ে যায়। ওসি জিয়াউল আহসান জানিয়েছেন, হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।