বরিশালের উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার লিটনের বিরুদ্ধে মধ্য সাতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ৩০ বছর ভোগদখলীয় পৈত্রিকসম্পতি ও বসতঘর জোর করে দখল করা অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভোগদখলিয় পৈত্রিকসম্পত্তি ও বসতঘর উদ্ধারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে প্রধান শিক্ষক আলমগীর বিশ্বাস ও তার স্ত্রী লাইজু বেগম। এ ঘটনায় জেলা, উপজেলা আওয়ামীলীগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বির্বতকর অবস্থায় পড়েছে। জানাযায়, সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল বাশার লিটন ও তার ভাই মিলন চার মাস পূর্বে প্রধান শিক্ষকের বসতঘর থেকে ভাড়াটিয়া জোর করে নামিয়ে দিয়ে দখল করে নিয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য, জনপ্রতিনিধির কাছে ধর্ণা দিয়ে কোন প্রতিকার পাইনি ওই দম্পত্তি। ১৯ জুলাই বুধবার ভুক্তোভুগি প্রধান শিক্ষক আলমগীর বিশ্বাস ও তার স্ত্রী লাইজু বেগম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। প্রধান শিক্ষক আলমগীর বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, সাতলা ইউনিয়নের মুড়িবাড়ী গ্রামের সুইজগেট নামক এলাকার পশ্চিম পাশে ১৮৪নং খতিয়ানে ১৫৫৬ নং দাগে উত্তর সাতলা মৌজায় ৩২ শতাংশ জমি পৈত্রিক সম্পত্তি সূত্রে ভোগ দখল করে আসছি। এর ভিতর সামান্য কিছু জমি বেড়িভাদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে নিয়েছে । বাকি জমি ৩০ বছর যাবাৎ ভোগ দখল করে আসছি। ওই সম্পত্তিতে আমরা বসতঘর তৈরি করে বসবাস করে আসছিলাম। কিছুদিন পূর্বে অন্যত্র স্থানে চলে যাওয়ায় সাতলা বাজারের টেইলার্স রিপন বৈদ্যর কাছে বসতঘরটি ভাড়া দেই। সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নতুন কমিটিতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান খায়রুল বাসার লিটন সভাপতি হওয়ার পর থেকে সেই ঘরটি দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠে। এরপরই ভাড়াটিয়া রিপন বৈদ্য’র কাছ থেকে জোর করে চাবি ছিনিয়ে নিয়ে ঘর থেকে বের করে দিয়ে দখল করে নেয়। এ নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার ওই বসতঘরে চাবি ফেরত দেওয়ারজন্য খায়রুল বাশার লিটনকে বললেও কারোর কোন কথা কর্ণপাত করেনি তিনি। আমাদের এই সম্পত্তির ভিতর তাদের কোন জমি নেই। এই সম্পত্তি আমার দাদা মৃত গফুর বিশ্বাসের নামে বিএস, আর,এস, ও এস,এ, খতিয়ানে রেকর্ডভ‚ক্ত। পৈত্রিক সূত্রে এই জমির মালিক আমি। কিভাবে খায়রুল বাশার লিটন ও তার ভাই এই সম্পত্তি দখল করে নেয়? প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী লাইজু বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমার বাবা একজন বীরমুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার। একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের মেয়ে হয়ে আজ আমি নিরুপায়। খায়রুল বাশার লিটন আমার কষ্টের টাকা দিয়ে তৈরি বসতঘর জোর করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দখল করে নিয়েছে। তাদের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। কিন্তু সাতলার প্রতিটি মানুষ জানে ওই সম্পত্তি আমরা দীর্ঘ ৩০ বছল ভোগ দখল করে আসছি। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। ভাড়াটিয়া রিপন বৈদ্য বলেন, আমি প্রধান শিক্ষক আলমগীর বিশ্বাসের কাছ থেকে ঘর ভাড়া নিয়েছিলাম। এরকিছুদিন পর খায়রুল বাশার লিটন আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে ঘর থেকে বেড় করে দেয়। অভিযুক্ত সাতলা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে সভাপতি খায়রুল বাশার লিটন বলেন, ওই সম্পত্তি আমার। আমি কারোর সম্পত্তি দখল করি নাই। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আ: মজিদ সিকদার বাচ্চু বলেন, একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত না করার আগ পর্যন্ত কিছুই বলতে পারবো না এ বিষয়ে। উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মমিন উদ্দিন জানান, এ বিষয় কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তকরে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।