বরিশালের উজিরপুরে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ ভবন মাদকের স্বর্গরাজ্য। থানা থেকে এর দূরত্ব হাফ কিলোমিটার। ৫০ টির অধিক মাদক মামলার স্থান দেখানো হয়েছে এই ভবনটি। দীর্ঘ কয়েক বছরেও কাউকে অফিস করতে দেখেনি এলাকাবাসী। এই অফিসে ৩ জন কর্মরত রয়েছে। প্রতিমাসে বেতনসহ সকল সুবিধা ভোগ করে খাতা-কলমে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মরতারা । ভবনটি চারপাশে ঝোপঝাড়, অন্ধকার। দিনের বেলাই সাধারন মানুষ ডুকতে ভয়পাই ওই ভবনে। উজিরপুরে টেলিযোগাযোগ ভবনে কর্মরত রয়েছে ওয়ার্ড চার্জ হিসাবে বকুল বেগম, লাইনম্যান বাবর আলী ও মাহাবুব রহমান। জনবল সংকট থাকায় ঠিকমতো তদারকি করা হয়নি বলে জানান কর্মকর্তারা। উপজেলা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডে টেম্পু ষ্ট্যান্ডের পাশে ২০০৫ সালে নির্মানাধীন টেলিযোগাযোগ ভবন উদ্ধোধন করেছে তৎকালিন সংসদ সদস্য এ্যাড. মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। এরপর কিছুদিন নিয়মিত অফিসটি চললেও এরপর থেকে তদারকির অভাবে ভবনের চারপাশে বড় গাছপালা, ঝোপঝাড় হওয়ায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীরা নিরাপদ জায়গা হিসাবে বেছে নেই বিটিসিএল ভবনটি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেলিযোগযোগ ভবনিটর কেচিগেটে একটি তালা দেওয়া রয়েছে। তালায়ও জং পড়েছে। ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবসে দেখা মেলেনি কোন জাতীয় পতাকা উত্তোলন । ভবনের পাশে কিছু মাদক সেবনরত অবস্থায় রয়েছে। এসময় ছবি তুলতে গেলে দৌড়ে ঝোপঝাড়ের ভিতর ডুকে ওয়ালের নিচে বড় ফাঁকা জায়গা দিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা মনির সরদার জানান, টিএনটি অফিসটি রাস্তার পাশে একটি নির্জন জায়গা হওয়ায় মাদক ক্রয়-বিক্রয়ের বড় স্পট হিসাবে চিহ্নিত । উজিরপুর বন্দর বা থানায় যেতে হলে টিএনটি অফিসের সামনে থেকে যেতে হয়। আর ওইখান থেকে ইয়াবা, গাঁজা সহ নানা ধরনের গন্ধে হাটতে কষ্ট হয়। ওই রাস্তা থেকে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করে। পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মজিবুর রহমান জানান, আমি কখন টিএনটি অফিসে কোন কর্মকর্তাকে অফিস করতে দেখিনি। অফিসে কেউ না থাকায় ওই জায়গা মাদক ব্যবসায়ীদের নিরাপদ বড় একটি স্পট। পুলিশ ওইখান থেকে অগনিত আসামী মাদকসহ গ্রেফতার করেছে। এরপরও মাদক ব্যাবসায়ী ও সেবীদের থামানো যায়নি। উজিরপুর মডেল থানার এস আই মাহবুব জানান, আমী দীর্ঘদিন এই থানায় কর্মরত আছি। টিএনটি অফিস থেকে এ পর্যন্ত অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের আমি নিজে গ্রেফতার করেছি। এ ছাড়া উজিরপুর থানায় ৫০টির বেশি মাদক মামলায় স্পট দেখানো হয়েছে টিএনটি অফিস। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে টেএনটি অফিসের গাইড ওয়ালের নিচে একাধিক বড় ফাঁকা জায়গা রয়েছে। আশেপাশে বড় বড় জঙ্গল থাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীদের পালাতে সহজ হয়। আমি চাকরিজীবনে এই অফিসে কাউকে দেখিনি অফিস করতে। উজিরপুর টেলিযোগাযোগের ওয়ার্ড চার্জ বকুল বেগম জানান, আমি একজন নারী এখানে কর্মরত আছি। চারপাশে ঝোপঝাড়, দিনেও অন্ধকার থাকে। তাই দিনেও অফিস করতে আমার ভয় করে। তাই নিয়মিত অফিস করা হয় না। লোকজন নাই । আমাকে নিয়মিত অফিস করতে হলে পুলিশ পাহাড়ায় করতে হবে । অফিস থেকে আমাদের সিকিউরিটির জন্যও ব্যবস্থা করেনি। আমি কি করবো বলেন? এছাড়া লাইনম্যান বাবর আলীকে তো অফিস বাসা ঘুমানোর জন্য উজিরপুর পাঠিয়েছে এমনই মনে হয়। যোগদানের পর থেকে অফিসে একদিও আসেনি। বাকি একজন লাইনম্যান সংযোগে কোন সমস্যা না থাকলে তেমন আসে না। বরিশাল জেলা বিটিসিএলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, আমাদের লোকজনের সংকট। অফিস চালাতে হলে সর্বপ্রথম সিকিউরি গার্ড একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে একাধিকবার উর্দ্ধোতন কর্মকর্তাদের জানালেও কোন পদক্ষেপ নেয়নি। যার কারনে অনেকেই নিয়মিত অফিস করে না। অফিসে ভিজিটে গেলেও চোখে পড়ে মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের। তাদের কাজে বাঁধা দিলে তার আমাদের উপর হামলা চালাতে আসে। তাই ভয়েও কিছু বলা হয় না ্। অফিস তদারকি বা পরিষ্কার করার জন্য আমাদের আলাদা কোন বাজেট নাই। আমরা নিজ উদ্যোগে পরিষ্কার করি। অনেক দিন না করাই আশেপাশে অনেক বড় বড় জঙ্গল সৃষ্টি হয়েছে। শোক দিবসে আমাদের উপজেলায় অফিস থেকে কোন প্রোগ্রামের কোন নির্দেশনা নাই। তাই যারা কর্মরত আছে তারা ওই দিবসটি আনুষ্ঠানিক ভাবে পালন করে না। সব প্রোগ্রাম বরিশাল জেলা অফিস থেকে করা হয়। বরিশাল বিভাগের বিটিসিএলের মহাব্যবস্থাপক শামীম ফারুককে তার মুঠো ফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও রিসিভ করেন নি।