বরিশালের উজিরপুরে ৫৫ জনের দ্বৈত ভোটারের সন্ধান পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। দ্বৈত ভোটার প্রায় নারী। দ্বৈত ভোটার নিয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে চলছে অনুসন্ধান। এতে দেখা যায় দ্বিতীয় বিয়ে, অজ্ঞতা বা অসচেতনতার কারণে। ভোটার হিসেবে নিবন্ধন হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে না পাওয়া, নিবন্ধনের স্লিপ হারিয়ে ফেলা, প্ররোচনা, শিক্ষা সনদ ও জন্ম নিবন্ধনের বয়সের সঙ্গে ভোটার হিসেবে বয়সের গড়মিল থাকায় সনদ অনুযায়ী দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে। এছাড়া জেনে ও বুঝে উদ্দেশ্যমূল্যকভাবেও কেউ কেউ দ্বৈত ভোটার হয়ে থাকেন। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরনো প্রযুক্তির ডিভাইস, কারিগরি ত্রুটির ফাঁক গলিয়ে, দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলা এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততার কারণেই দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার সুযোগ নেয় এক শ্রেণির নাগরিক। উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানাযায়, উজিরপুরে ৫৫ জনের দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। অসৎ উদ্দেশ্য দ্বৈত ভোটার হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও কার্যক্রম চলছে। দ্বৈত ভোটারদের মধ্যে যেগুলো সন্দেহভাজন তাদের দুটো এনআইডিই ব্লকড করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দ্বৈত ভোটারদের নোটিশ করার পাশাপাশি উদ্দেশ্য যাচাই করা হচ্ছে। এদের মধ্যে কারও অসৎ উদ্দেশ্য পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর অন্যদের প্রথমটি রেখে দ্বিতীয়টি ব্লকড ও কর্তন করা হবে। এক্ষেত্রে না বুঝে বা প্ররোচনায় পড়ে দ্বৈত ভোটার হওয়া কোনও ব্যক্তি যদি নিজের থেকে ইসিতে আবেদন করে ভুল স্বীকার করেন, তাহলে তাদের বিষয়টি সদয় বিবেচনা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষা সনদ অনুযায়ী ইসিতে বয়স বা অন্যান্য তথ্য সংশোধনীর সুযোগ থাকলেও নাগরিকদের একটি অংশ সংশোধনের পথে না গিয়ে দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন। ভোটার নিয়ে বিপাকে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর উপজেলায় ৮ থেকে ১০ জনের নামের তালিকা পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন তাদের খুজতে গিয়ে সন্ধান মিলেছে বাকি ৪৫ জনের। তারা ইতিমধ্যে তাদের ভুল স্বীকার করে আবেদন করেছে উপজেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে। আবেদন কারীদের মধ্যে একজন হলেন পৌর সভার ০৯ নং ওয়ার্ডের পরমানন্দ সাহা গ্রামের ইতি বেগম তার প্রথম বিয়ে হয়েছিলো ঢাকায় সেখান থেকে এসে নিজ এলাকায় আবার বিয়ে হওয়ায় তিনি দ্বিতীয়বার ভোটার হয়েছেন, ওটরা ইউনিয়নের কেশবকাঠি গ্রামের রেবা সিকারী , গুঠিয়া ইউনিয়নের ডহরপাড়া গ্রামের মোঃ হানিফ তাদের আবেদনে ভুলবশত ভাবে উল্লেখ করেছেন তমা ও রহিমা বেগম ঢাকায় ভোটার হয়েছে। তাদের ভোটার রিসিভ হারিয়ে যাওয়ায় দ্বিতীয়বার ভোটার হয়েছেন। এভাবে অনেকে দুইবার ভোটার হয়েছেন। এ ব্যাপারে ইতি বেগম বলেন, দ্বিতীয় বিয়ে করে নিজ এলাকায় আসায় তার আগের ভোটার আইডি কার্ড না পাওয়ায় তিনি ভোটার হয়েছেন। তবে এ কারনে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ সেখ জানান, দ্বৈত ভোটারের তালিকা নির্বাচন কমিশন থেকে একটি তালিকা দিয়েছে। তাদের ব্যাপারে যাচাই বাছাই করে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। ইতিমধ্যে ২২ জনের দ্বৈত ভোটারের তদন্ত করে শুনানি হয়েছে। বাকিদের ব্যাপারেও তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অনেকের ভোটার আইডি ব্লক করে দেওয়ায় স্বেচ্ছায় প্রায় ৪৫ জন তাদের ভুল স্বীকার করে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছে। তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। কারোর বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্য দ্বৈত ভোটার হওয়ার বিষয় প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।