উজিরপুর(বরিশাল) প্রতিনিধিঃ
উজিরপুরে জাল সনদ দিয়ে স্কুলে চাকরী নেয়ার অভিযোগে এক মহিলা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উজিরপুর থানার ওসি জিয়াউল হক।
তিনি বলেন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১৪। মামলার পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।
মামলায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকার নাম সুরাইয়া ইসলাম বিনা। তিনি একই সাথে উজিরপুর পৌর সভার সংরক্ষিত (১,২,৩) ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। মামলা দায়েরের পর আত্মগোপনে চলে গেছেন সুরাইয়া ইসলাম বিনা। জানা গেছে, আলাউদ্দিন আকনের মেয়ে উপজেলার শের-ই-বাংলা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) সুরাইয়া ইসলাম ২০০৭ সালের তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার (রোল নং-৬১১৬০০২৬, রেজিষ্ট্রেশন নং-৭০১২২৭২) সনদ দিয়ে চাকরী গ্রহণ করেন। কিন্তু ২০ অক্টোবর সুরাইয়া ইসলামের সহকারী শিক্ষক (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) এর নিবন্ধন সনদ যাচাই করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন তার সনদের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নাম্বারে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষর (এনটিআরসিএ) প্রত্যায়ন আসে আবুল হাসনাত মোঃ রাসেল, পিতা গোলাম হোসাইন নামে। সুরাইয়া ইসলামের জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়লে শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) শের-ই-বাংলা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সে অনুসারে মঙ্গলবার মামলা দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সুরাইয়া ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোনে ফোন দেয়া হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সুরাইয়ার মুঠোফোনটি বন্ধ ছিল।

প্রসঙ্গত, নিবন্ধনের সনদ জালিয়াতি করে সুরাইয়া ইসলাম ২০১২ সালের ২৮ মার্চ স্কুলে আবেদন করেন। ওই বছর ১৫ মে তাকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১২ সালের ১ নভেম্বর সুরাইয়া এমপিভূক্ত হয়ে ৩১ অক্টোবর ২০২০ পর্যন্ত চাকুরী করে আসছিলেন।