বরিশালের উজিরপুরের নয়টি ইউনিয়নে ২২টি ডেন্টাল ক্লিনিক সরকারী অনুমোদন ছাড়াই চলছে দীর্ঘ বছর । এ ছাড়া নামসর্বস্ব দন্ত চিকিৎসক দিয়েই এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসক হিসেবে কাজ করা অধিকাংশই হাতুড়ে চিকিৎসক অথবা র্শট কোর্সে প্রশিক্ষণ দিয়ে দন্ত চিকিৎসক বনে গেছেন। ক্লিনিকগুলোকে নিবন্ধনভুক্ত হতে ২০২০ সালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। কিছু ডেন্টাল ক্লিনিকের মালিক সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে কাগজপত্র গুছানোর জন্য সময় চেয়ে আসার পর আর কোন পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। গত ২১ জুলাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শওকত আলী স্বাক্ষরিত একটি আদেশে প্রাথমিক পর্যায়ে ০৬টি ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেয়া হয়েছে। নোটিশ দেওয়ার পরেও অদৃশ্য কোন শক্তির কারনে ডেন্টাল কেয়ার গুলোর বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বরং তা চালু রয়েছে। মঙ্গলবার ও বুধবার ক্লিনিকগুলো ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার সবচেয়ে বেশি ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে হারতা ও শোলক ইউনিয়নে। এই দুটো ইউনিয়নে ১২টি ডেন্টাল ক্লিনিক রয়েছে। ক্লিনিক গুলো হলো হারতা বন্দরে সুমন ডেন্টাল কেয়ার, মা আরতি ডেন্টাল কেয়ার, মা ডেন্টাল কেয়ার, গ্রামীন ডেন্টাল কেয়ার, কারিব ডেন্টাল কেয়ার, গ্রীন লাইফ, শোলক ইউনিয়েনর ধামুরা বন্দরে নুর মেডিকেল ডেন্টাল কেয়ার, তারিকুল ডেন্টাল কেয়ার, বাচ্চু ডেন্টাল কেয়ার, মোল্লা ডেন্টাল কেয়ার, শরীফ ডেন্টাল কেয়ার, তামিম ডেন্টাল, সাতলা ইউনিয়েনের বাজারে মিঠু ডেন্টাল কেয়ার, জল্লা ইউনিয়নের রয়েছে ৩টি । টাকাবাড়ীতে গাইন ডেন্টাল কেয়ার, কারফায় শিখা ডেন্টাল কেয়ার, মা ডেন্টাল কেয়ার। ওটরা ইউনিয়নের হাবিবপুর বাজারে মাহাবুল ডেন্টাল কেয়ার, বামরাইল ইউনিয়নে জহুরা ডেন্টাল কেয়ার, শিকারপুর ইউনিয়নের জয়শ্রী বাস ষ্টান্ডে শাহীরা ডেন্টাল কেয়ার ও গুঠিয়ায় রায় ডেণ্টাল কেয়ার নামে ক্নিনিক রয়েছে। এর একটিতেও বিডিএস চিকিৎসক ও দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। যাঁরা চিকিৎসক হিসেবে আছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই চিকিৎসা দেওয়া থেকে শুরু করে দাঁত তোলা, অস্ত্রোপচারÍসবই করছেন। এ চিত্র উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে । সিভিল সার্জনের কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি ক্লিনিকে বিডিএস ডিগ্রিধারী ডেন্টাল সার্জন নেই। একটি ক্লিনিকেও টেকনিশিয়ান তো দূরের কথা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কোনো লোকও নেই। যাঁরা চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাঁরাই দাঁত তুলছেন। তাঁরাই আবার ফিলিং থেকে দাঁত বা মাড়ির যেকোনো ধরনের অস্ত্রোপচার করছেন। নেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাবরেটরি। বিভিন্ন অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জনের নাম ব্যবহার করে আকর্ষণীয় সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে এসব ক্লিনিক পরিচালনা করা হচ্ছে। তিন বা ছয় মাসের শর্ট কোর্সের প্রশিক্ষন নিয়ে নিজের নামের আগে ডেন্টিস্ট শব্দটি যোগ করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। হারতা বন্দরের মা আরতি ডেন্টাল ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী বিশ্বজিৎ বলেন, বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতাল থেকে তিন মাসের একটি প্রশিক্ষণ কোর্স করেছেন। কিন্তু তার কোন লাইসেন্স নেই দীর্ঘ ৮ বছর এই কাজ করে আসছেন । একই বন্দরের সুমন ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্বাধিকারী মো: মিজানুর রহমান বলেন, ২০০৭ সাল থেকে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দন্ত চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তার প্রতিষ্ঠানে বিডিএসের চিকিৎসক নেই তবে তিনি শর্ট কোর্সের ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এভাবে চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, নাই কিন্তু আমরা করবো কি? আমরাতো এই পেশায় আছি এখন যাবো কোথায় বলেন? একই বন্দরে কারিব ডেন্টাল কেয়ারে কোন বিডিএস চিকিৎসক, ডিপ্লোমা ডিগ্রীধারী সহকারী আছে কিনা জানতে চাইলে স্বত্তাধিকারী জাকির হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১২ বছর দাঁতের চিকিৎসা দিচ্ছি। কোন সমস্য হয়নি। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে মৌখিক ভাবে অনুমতি নিয়ে ক্লিনিক পরিচালনা করে আসছি। শোলক ইউনিয়নের ধামুরা বন্দরে নূর ডেন্টাল ক্লিনিকের স্বত্তাধিকারী পল্লী চিকিৎসক মো: আ: করিম এর ছেলে ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক তারিকুল ইসলাম বলেন, তারা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে স্থানীয় রোগীদের দাতেঁর চিকিৎসা দিয়ে আসছেন । তাদের ডেন্টাল কেয়ারেও বিডিএস চিকিৎসক নেই । বাবা পল্লী চিকিৎসক তার সনদ দিয়ে বাবা ও ছেলে মিলে পরিচালনা করে আসছেন। তবে তিনি শর্ট কোর্সের ডিপ্লোমা করে দাতেঁর চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে জানান। একই বন্দরের তামিম ডেন্টাল কেয়ারের স্বত্তাধিকারী মাহাবুব হোসেন জানান, তিনি ১৩ বছর নূর ডেন্টাল কেয়ারে স্বাত্তাধিকারী পল্লী চিকিৎসক আ: করিমের সহযোগী হিসাবে কাজ করেছেন । এখন তিনি নিজেই তামিম ডেন্টাল কেয়ার নামে সাইনর্বোড টানিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শওকত আলী বলেন, আমার জানামতে এই উপজেলায় একটিও ডেন্টাল ক্লিনিকের সরকারের কোন অনুমোদন নাই। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আমাদের কাছে রির্পোট চেয়েছিলো । সেই অনুযায়ী তদন্ত করে একটি ডেন্টাল কেয়ারেরও কাগজ পায়নি। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য রির্পোট কিন্তু কি কারনে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি তা আমার জানা নাই। জেলা সিভিল সার্জন ডা: মোসা: মারিয়া হাসান বলেন, সব ডেন্টাল ক্লিনিকের আউটডোর হিসেবে নিবন্ধিত হওয়া বাধ্যতামূলক। তবে অবশ্যই একজন বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসকের সেখানে দায়িত্বে থাকতে হবে। ডেন্টাল ক্লিনিক নিবন্ধন দেওয়ার এখতিয়ার সিভিল সার্জনের নাই। অনুমোদন দিবে শুধু স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। আমরা ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রির্পোট পাঠাতে পারি। তাছাড়া তদন্তে প্রমান হয় ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোর অনুমোদন নাই তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ওই সকল অবৈধ ডেন্টাল কেয়ারের বিরুদ্ধে ক্লিনিক বন্ধসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।