কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একক গ্রাহকের ঋণ সীমার সাধারণ সীমাবদ্ধতা থেকে পাঁচ বছর ছাড় দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে এ খাতের প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ একটি ব্যাংকের মোট মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ নিতে পারবে। অবশ্য সেই সীমা কতো হবে কেস টু কেস ভিত্তিতে তা ঠিক করে দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ২৬ জুলাই ঋণ সীমার সাধারণ সীমাবদ্ধতা থেকে অন্যান্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৬ মাসের জন্য ছাড় দেওয়া হয়। জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির জন্য আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে পারবে। নতুন করে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রে পাঁচ বছরের জন্য ঋণ সীমায় ছাড় দেওয়া হলো।

বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রপকে ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড মিলে একটি ব্যাংক তার মূলধনের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ ঋণ দিতে পারে। কোনো অবস্থায় এর বেশি ঋণ দিলে তা ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬(খ) ধারার লঙ্ঘন। আবার ব্যাংক কোম্পানি আইনে কোনো বিষয় উল্লেখ থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজ থেকে সে বিষয়ে ছাড় দিতে পারে না। এ কারণে আইনের ১২১ ধারায় দেওয়া ক্ষমতা বলে সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ছাড় দিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় অর্থ সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের জন্য জমি কেনা, যন্ত্রপাতি আমদানি ও কেনা, মেশিনারি স্থাপন, মেরামত এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লাসহ অন্যান্য কাঁচামাল কেনা বা আমদানির ব্যয় নির্বাহের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে কোনো ব্যাংক ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৬খ(১) ধারার নিষেধাজ্ঞা আগামী ৫ বছরের জন্য কার্যকর হবে না। তবে উক্ত ধারার শর্তে উল্লেখিত ২৫ শতাংশের উর্ধ্বসীমার জায়গায় ঊর্ধ্বসীমা কতো হবে বাংলাদেশ ব্যাংক তা নির্ধারণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ দিতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমতি নিতে হবে। তবে এ ধরনের একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ কতো ঋণ নিতে পারবে কেস টু কেস ভিত্তিতে তা ঠিক হবে।