বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে জেলা নির্বাচন অফিসের আপিল বিভাগ।

গতকাল বুধবার ১০ নভেম্বর বিকেলে আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থী আব্দুস ছত্তার মোল্লার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের তথ্য গোপন করে মনোনয়ন দাখিল করায় গুঠিয়ায় আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস ছত্তার মোল্লার মনোনয়ন বাতিল চেয়ে আবেদন করেছে প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ মোঃ নাসির উদ্দীন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বরিশাল আঞ্চলিক জেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ে

গত মঙ্গলবার ও বুধবার দুই দিন উভয় পক্ষের আইনজীবী দের যুক্তিতর্ক শেষে উজিরপুরে গুঠিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুস ছাত্তার মোল্লার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
এসময় শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো: ইউনুস, জেলা জ্যৈষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল আলম, উজিরপুর উপজেলা নির্বাচন কমকর্তা মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ সেখ, উজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আলী আর্শাদ, উজিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেন, সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ গিয়াস উদ্দিন বেপারি, আওয়ামীলীগের প্রার্থী আব্দুস ছাত্তার মোল্লা, আবেদনকারী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: নাসির উদ্দিন ও তার আইনজীবী হিসেবে এ্যাড. মজিবর রহমান নান্টু, এ্যাড. নাজিম উদ্দিন পান্না, এ্যাড. আজাদ রহমান সহ উভয় পক্ষের আইনজীবীগণ ।

আব্দুস ছত্তার মোল্লা উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের পাথুনিয়াকাঠী এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তিনি গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

উজিরপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুই বছরের অধিক সাজা থাকলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থিতা করতে পারবেন না। দুই বছরের কম থাকলে সাজা ভোগের পর পাঁচ বছর অতিবাহিত হলে ওই ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তবে ছাত্তার মোল্লা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে ছাত্তার মোল্লাকে বৈধ প্রার্থী ঘোষণা করার পর তা চ্যালেঞ্জ করে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আপিল করেছিলেন গুঠিয়া ইউনিয়নের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বি চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন।

আব্দুর রশিদ আরও বলেন, বুধবার বিকালে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দুপক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছাত্তার মোল্লা ও মো. নাসির উদ্দিনের আইনজীবীরা অংশ নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ছাত্তার মোল্লার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম।

জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নুরুল আলম বলেন, নির্বাচন বিধিমাল অনুযায়ী তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ছাত্তার মোল্লা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। আদালত তার পক্ষে রায় দিলে তিনি ফের প্রার্থিতা ফিরে পাবেন।

তবে আব্দুস ছাত্তার মোল্লা বলেন, তার পক্ষে গণজোয়ার দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মো. নাসির উদ্দিন বানোয়াট অভিযোগ তুলে আপিল করেছিলেন। ষড়যন্ত্রমূলক একটি মামলায় তাকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছিল। উচ্চ আদালত ওই রায় স্থগিত করায় নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। আমি এ আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে যাবো।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালে বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নে একটি বাড়িতে ডাকাতি ও জুলেখা বেগম নামে এক নারীকে হত্যা করা হয়। ওই মামলার ১ নম্বর আসামি আব্দুস ছাত্তার মোল্লা। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নিম্ন আদালত ছাত্তার মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন। ছয় বছর কারাভোগের পর তিনি ২০০৯ সালে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। তবে এ সব তথ্য গোপন করে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে ছাত্তার মোল্লা গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।