রবির সিইও হিসেবে নিজের অগ্রাধিকারের কথা বলতে গিয়ে রাজীব শেঠি বলেছেন, গ্রাহক সেবাই হবে তার প্রধান আগ্রাধিকার।

এই লক্ষ্যে আরও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে গ্রাহক সন্তুষ্টি ধরে রাখতে চান তিনি।



বুধবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে রবি কর্পোরেট অফিসে টেলিকম সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন রাজীব।

এছাড়া আগামীতে রবিকে নেতৃত্ব দেওয়ার বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে উপস্থিত সাংবাদিকদের অবহিত করেন নতুন সিইও।

এর আগে, ৩ অক্টোবর রবির সিইও হিসেবে যোগ দেন রাজীব শেঠি। মিয়ানমারের শীর্ষ অপারেটর উরিডুতে সিইও হিসেবে সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালনের পর রবিতে যোগ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অবাস্তব প্রতিশ্রুতি না দিয়ে আমরা গ্রাহকদের মতামত গ্রহণ করে সে অনুযায়ী কাজ করতে চাই। আমরা সেবার গুণগতমান নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব যাতে গ্রাহকদের ডিজিটাল জীবনধারা উপভোগ করার পথ আরও সুগম হয়।

ফোরজি সেবা প্রদানে রবির অগ্রণী ভূমিকা কথা তুলে ধতে গিয়ে তিনি বলেন, রবির মোট গ্রাহকের (৫ কোটি ৪৪ লাখ) ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ গ্রাহক ফোরজি ব্যাবহারকারী এবং মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এমনকি আপনি যদি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দিক থেকে দেখেন মোট গ্রাহকের পরিপ্রেক্ষিতে রবির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বোচ্চ (৭৫.৫%)। ১৫ হাজার ২১৯টির বেশি ফোরজি সাইট নিয়ে দেশের ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ জনসংখ্যার কাছে ফোরজি নেটওয়ার্ক পৌঁছে দিয়েছে রবি।

সরকারের স্টেকহোল্ডারদের সাথে তার আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ খাতের প্রতি সরকারের সক্রিয় অবস্থান দেখে আমি খুবই উৎসাহিত। সব অপারেটরের জন্য সমান ব্যবসায়িক সুবিধা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। গত সাত বছরে টেলিযোগাযোগ শিল্পে আমরা বিশাল অঙ্কের মূলধনী বিনিয়োগ করেছি। সব অপারেটরের জন্য সমান ব্যবসায়িক সুবিধা নিশ্চিত হলে শেয়ারহোল্ডাররা আরও বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন।

রবির ডিজিটাল উদ্ভাবনে সক্ষমতাকে হাইলাইট করে তিনি বলেন, যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে বেসরকারি খাতের মধ্যে রবিই প্রথমবারের মতো চারস্তর বিশিষ্ট ডাটা সেন্টার স্থাপন করছে। এআই ম্যাচিউরিটি ইনডেক্সেরে দিক দিয়ে আজিয়াটা পরিচালিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে টানা তিন বছর বেস্ট অপারেটিং কোম্পানির স্বীকৃতি পেয়েছে রবি। দেশের এন্টারপ্রাইজ খাতের উদ্ভাবনী ডিজিটাল সল্যুশনের প্রয়োজনের দিকটি মাথায় রেখে সম্প্রতি আমার ‘রবি ফর বিজনেস’ নামে একটি নতুন এন্টারপ্রাইজ বিজনেস ব্র্যান্ড চালু করেছি।

রবির চালু করা বিডিঅ্যাপসকে আইসিটি ডিভিশন জাতীয় অ্যাপস্টোরের স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতিমাসে গ্রাহকদের সাথে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশনের পরিমাণ ৫৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫২ শতাংশই ঘটে আমাদের মাই রবি ও মাই এয়ারটেল অ্যাপে। এছাড়া আমাদের মোট রিচার্জের ৩৮ শতাংশ হয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। তাই ডিজিটাল যুগের পরববর্তী ধাপে পৌঁছানোর জন্য সামগ্রিকভাবেই প্রস্তুত রবি। আমাদের সিএসআরের একটি ফোকাস এরিয়া হলো ২০৫০ সালের মধ্যে জিরো ইমিশন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে, রবি কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে নানামুখী উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল এডুকেশন ডোমেইনে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রবি।

বাংলাদেশে রাজীব নতুন কেউ নন; এর আগে তিনি টেলিনরের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রবির সিইও হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে এটাই তার প্রথম মতবিনিময়।