চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে এক নেতাকে সাধারণ সম্পাদক পদ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথোপকথনের একটি অডিও বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাব্বির আহমেদ দাবি করেছেন, অডিওতে যে দু’জনকে কথা বলতে শোনা গেছে তাদের একজন তিনি নিজেই, আর অপরজন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আতিকুল ইসলাম।

অডিওর কথোপকথন অনুযায়ী, পদপ্রত্যাশী সাব্বির আহমেদকে মোবাইল ফোনে আতিকুল বলেন, তিনি এক লাখ টাকা পেয়েছেন। আরও দেড় লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেন তিনি। সাব্বির জানান, তিনি তাঁর চাহিদা অনুযায়ী পুরো টাকা দিলেও প্রতিশ্রুত পদ পাননি।
২ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের অডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে কয়েক দফা চেষ্টা করেও অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আতিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অডিওতে আতিকুল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই আমারে আগে এক লাখ দিয়েছিস, পেয়েছি। আমি খুব গর্বিত। খুব দ্রুত এখন ২৫ হাজার টাকা বিকাশ কর, আর সকালে ২৫ হাজার টাকা বিকাশ করবি।’ জবাবে সাব্বির বলেন, ‘২৫ হাজার টাকা তো এখন নাই ভাই, একটু সময় দেন, ম্যানেজ করি।’

আরও কিছু সময় এ নিয়ে আলাপের পর আতিকুল বলেন, ‘এখন চার কিস্তিতে তুই আমারে কালকের ভেতরে ১ (লাখ) পাঠিয়ে দিবি।’

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সাব্বির জানান, বিভিন্ন সময় কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে আতিক তাঁর কাছ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

সাব্বির সাংবাদিকদের ২৫ হাজার করে ৫০ হাজার টাকার বিকাশের ২টি স্ক্রিনশট এবং অডিও বার্তা সরবরাহ করে বলেন, ‘আতিকুল আমাকে কথা দিয়েও কথার বরখেলাপ করেছে। আমার সৎ সাহস আছে বলেই আমি বলতে পারছি। তাঁর সাহস থাকলে তিনি প্রমাণ করুক।’

তিনি আরও জানান, ওই অডিও ক্লিপটি গত ২২ অক্টোবরের। এরপর গত ৭ নভেম্বর ডা. সাইফ জামান আনন্দকে সভাপতি এবং মো. আশিকুজ্জামানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা ছাত্রলীগের কমিটির অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটি।