বরিশাল : সনদ জালিয়াতির দায়ে শের-ই-বাংলা পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উজিরপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান গত ২৫ জানুয়ারি সুরাইয়া ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বরিশালের উজিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন ওসি (তদন্ত) মাহাবুবুর রহমান। এজাহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় সহকারী শিক্ষিকা সুরাইয়া ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষিকা সুরাইয়া ইসলাম উজিরপুর পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলামের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সুরাইয়া ইসলাম ২০০৭ সালের তৃতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার সনদ দিয়ে ২০১২ সালে শের-ই-বাংলা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক (উদ্ভিদ বিজ্ঞান) পদে চাকরি নেন। তার জমা দেওয়া সনদের রোল নম্বর ৬১১৬০০২৬ এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৭০১২২৭২।

শের-ই-বাংলা পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ২০১২ সালের ২৮ মার্চ সুরাইয়া ইসলাম শিক্ষক পদে আবেদন করেন। ওই বছরের ১১ মে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতে সাতজন প্রার্থী অংশ নেন। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ায় নির্বাচন বোর্ড সুরাইয়া ইসলামকে নিয়োগ প্রদানে ম্যানেজিং কমিটিকে সুপারিশ করেন। ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্তে ১৫ মে সুরাইয়া ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই বছরের ১ নভেম্বর সুরাইয়া এমপিওভুক্ত হয়ে ৩১ অক্টোবর ২০২০ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। একপর্যায়ে আমি জানতে পারি সুরাইয়ার শিক্ষক নিবন্ধনের সনদটি জাল। বিষয়টি এনটিআরসিএতে লিখিতভাবে জানাই এবং ১৬ ডিসেম্বর সুরাইয়া ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করি।

গত ৩০ ডিসেম্বর এনটিআরসিএর সহকারী পরিচালক তাজুল ইসলাম পুলিশকে জানিয়েছেন, শিক্ষক সুরাইয়া ইসলাম জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন। মূলত তিনি যে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের মাধ্যমে চাকরি নিয়েছেন সেই রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের প্রকৃত সনদধারীর নাম আবুল হাসনাত মো. রাসেল। বাবার নাম গোলাম হোসাইন।

পুলিশের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সুরাইয়া ইসলাম আট বছর চাকরিকালে সরকারি সুবিধা ও স্কুল তহবিল থেকে ১৪ লাখ ৯১ হাজার ৩৭১ টাকা আত্মসাৎ করেন।