উজিরপুরকে ডিজিটাল পৌরসভা করে জনগণের দৌড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারি। প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হয়ে তিনি তার এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পৌরসভার উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। শুরুতে নানা প্রতিকূলতা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা এবং সাবেক চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পরামর্শে সাবেক ও বতর্মান সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর পৌরসভাকে ডিজিটালাইজেশন করার জন্য ইতিমধ্যে
একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করে সেটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। অনুমোদন পেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারবেন বলে জানান মেয়র গিয়াস উদ্দিন বেপারী।

করোনাকালীন সময়ে পৌরসভা উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন ও বরাদ্দ না থাকায় রাস্তা-ঘাট সহ কিছু উন্নয়ন মূলক কাজে বিঘ্ন হলেও অচিরেই তা সমাধান হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

প্রথম মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমেই তিনি তার এলাকার শতভাগ সড়ক পাকাকরণ এবং শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা দিয়েছেন পৌরবাসীকে। তবে এখনো শতভাগ নাগরিক সুবিধা পাননি পৌরবাসী। অবশ্য দ্বিতীয় দফা মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সড়কবাতি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ আধুনিক ও মডেল পৌরসভা গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীর সন্নিকটে উজিরপুর পৌরসভা। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ৬.২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ পৌরসভায় মোট জনসংখ্যা ১৫ হাজার ৬২৯ জন (সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী)। ২০১৩ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি উজিরপুর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন মো. গিয়াসউদ্দিন বেপারী।

এ পৌরসভায় শিক্ষার হার ৯৭ শতাংশ। মোট জনসংখ্যার মধ্যে ভোটার রয়েছেন ১০ হাজার ৪৭৮জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫ হাজার ৩৫৫ জন আর মহিলা ভোটার ৫ হাজার ১২৩ জন। এত ছোট আয়তনের এ পৌরসভায় সরকারি একটি হাসপাতাল, ৮টি প্রাইমারি স্কুল, ১টি সরকারি হাইস্কুল, ২টি কলেজ, ১টি মাদ্রাসা, ৪৫টি মসজিদ, ৮টি দুর্গামন্দির ও ৫০টি মন্দির রয়েছে।

দূরন্ত নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মেয়র গিয়াসউদ্দিন বেপারী বলেন, প্রথমবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এলাকার সড়ক ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে যে উন্নয়নের জোয়ার বইছে তার ছোঁয়া উজিরপুর পৌরসভাও পেয়েছে। আর এ কারণেই বর্তমানে পৌরসভার মোট ৫২ কিলোমিটার সড়কের ৯০ শতাংশ পাকাকরণ করা হয়েছে। তবে নিজস্ব উদ্যোগে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সড়কবাতি বসানো হয়েছে। এছাড়া শতভাগ বিদ্যুৎ সুবিধা ভোগ করছেন পৌরবাসী।এদিকে এডিবির সহযোগিতায় কিছু ড্রেন নির্মাণ করা করা হলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলাবদ্ধতা নিরসন করা সম্ভব হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সড়কবাতি নিশ্চিত করাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তিনি। এছাড়া বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা ভবনে কক্ষ ভাড়া নিয়ে পৌরসভা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জায়গার অভাবে নিজস্ব পৌরভবন করা যাচ্ছে না । মেয়র গিয়াসউদ্দিন আরোও জানান, তার এলাকায় শতভাগ বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হলেও বিধবা ভাতা এবং পঙ্গু ভাতা আংশিক প্রদান করা হয়েছে। মশক নিধনে নিয়মিত ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ওষুধ ছিটানো কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এখনো শতভাগ নাগরিক সুবিধা দিতে না পারায় তার মেয়াদে এখন পর্যন্ত কোনো বর্ধিত করারোপ করা হয়নি। তবে ৩টি হাটবাজার ইজারা ও পৌর করের টাকা দিয়েই পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। নাগরিক সুবিধা শতভাগ নিশ্চিত না করা পর্যন্ত নতুন করে কোনো পৌরকর বাড়ানো হবে না বলেও জানান তিনি। মাদক ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর মাদক নির্মূলের জন্য নির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি কমিটি করেছেন যারা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। তবে শতভাগ মাদক নির্মূল করতে আরো সময় লাগবে। এছাড়াও পৌরসভার কোনো কাজে কাউকে কোনো পার্সেন্টেজ দেয়া লাগে না বলে নিশ্চিত করেন তিনি। মেয়র গিয়াসউদ্দিনের বাবা উজিরপুর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। বাবার হাত ধরেই তিনি রাজনীতিতে আসেন। এর আগে তিনি তিন-তিনবার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।