ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ধর্ষণ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে অনশনে বসেছেন মামলার বাদী ফাতেমা আক্তার।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় ওই ছাত্রীর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ওই ছাত্রী বলেন, ‘ধর্ষকরা জাতির শত্রু। তাদের কোনো ক্ষমা নেই। হাসান আল মামনু ও নুরুল হক নুরদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমার অনশন অব্যাহত থাকবে।’

এর আগে ধর্ষণ ও ধর্ষণের সহযোগিতার অভিযোগ এনে গত ২০শে সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর লালবাগ থানায় একটি মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্রী।


মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন (২৮), যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হাসান সোহাগ (২৮), ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর (২৫), ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম (২৮), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সহসভাপতি নাজমুল হুদা (২৫) ও আব্দুল্লাহিল বাকি (২৩)।

লালবাগ থানায় করা এজাহারে বাদী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, আসামি হাসান আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র। তিনি আমার ডিপার্টমেন্টের বড়ভাই এবং বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সুবাদে তার সঙ্গে আমার পরিচয় হয়।

২০১৮ সালের ২৯শে জুলাই মামুনের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয় এবং পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়। এর ধারাবাহিকতায় আসামির সঙ্গে আমার বিভিন্ন সময়ে মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কথোপকথন হয়। সেখানে আসামি আমাকে শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আসামি এ বছরের ৩রা জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে তার বাসা নবাবগঞ্জ বড় মসজিদ এলাকায় যেতে বলে এবং আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার বাসায় ধর্ষণ করে।

এজাহারে আরো বলা হয়েছে, ঘটনার পর গত ৪ঠা জানুয়ারি আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ১২ই জানুয়ারি আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মামুনের বন্ধু সোহাগের মাধ্যমে ভর্তি করানো হয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় আমি ক্যাম্পাস রিপোর্টারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে মামুন ও সোহাগ বাধা দেয়।

এর আগে মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে রাজি হয় কিন্তু আমি অসুস্থ হওয়ার পর সে নানা টালবাহানা শুরু করে।