ঢাকা: নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় গৃহবূধকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি বাদল সাতদিন ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সোহাগ দু’দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।

এরই মধ্যে মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত দল।


তারা স্থানীয়দের পাশাপাশি এবং ক্ষতিগ্রস্ত নারীর বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় থানায় নতুন একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত নারীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক ও তদন্ত দলের প্রধান আল মাহমুদ ফায়জুল কবির বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত নারীর এ ঘটনার আগে গত দুই বছরে তাকে দুইবার ধর্ষণ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে নতুন মামলাটি করেছে কমিশন।

গত ০৪ অক্টোবর দুপুরের দিকে ঘটনার ৩২ দিন পর গৃহবধূকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তা ভাইরাল হয়।


এতে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। ঘটনার পর থেকে গত ৩২ দিন অভিযুক্ত স্থানীয় দেলোয়ার, বাদল, কালাম ও তাদের সহযোগিরা নির্যাতিতা গৃহবধূর পরিবারকে কিছু দিন অবরুদ্ধ করে রাখে।

একপর্যায়ে তার পুরো পরিবারকে বসতবাড়ি ছাড়তে বাধ্য করলে পুরো ঘটনা দীর্ঘদিন স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ প্রশাসনের অগোচরে থাকে। পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ ও র‌্যাব কয়েক দফায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধান আসামিসহ এ পর্যন্ত ছয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
বিবস্ত্র করে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনাটির এক মাস পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই এ ঘটনা নিয়ে তোলপাড় চলছে।

তদন্ত দলের প্রধান বলেন, আমরা ক্ষতিগ্রস্ত নারী এবং স্থানীয় মানুষের বক্তব্য নিয়ে তারই ভিত্তিতে নতুন মামলাটি করা হয়েছে। ভিকটিম আমাদের যেটা বলেছেন, সেটা হলো- তাকে এর আগে (দুই বছরে) দুইবার ধর্ষণ করা হয়েছে। তিনি ওই ঘটনার স্থান এবং সময়ও আমাদের বলেছেন। এক বছর আগে প্রথম এবং গত রোজার কিছুদিন আগে তাকে দ্বিতীয়বার ধর্ষণ করা হয়েছিল। সে সময় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, তিনি এতে রাজি না হলে তাকে গণধর্ষণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এতই নিরীহ আর ওরা এতই শক্তিশালী এবং সশস্ত্র ও ভয়ঙ্কর, সেজন্য ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মামলা করতে সাহস পায়নি। তাই আমরা মঙ্গলবার ধর্ষণ মামলা করেছি।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ধর্ষণ ও নিপীড়নের শিকার নারী ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি মেম্বারকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু মেম্বার এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনা গোপন রাখেন। এর মাধ্যমে ইউপি মেম্বার বড় একটা অপরাধ করেছেন। সেজন্য তাকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে ঘটনা গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী নারী যে বক্তব্য দিয়েছেন এবং আদালতে জবানবন্দি যা দিয়েছেন- এ দু’টো বক্তব্য মিলিয়ে তদন্ত শুরু করেছি।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, ওই ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযুক্তদের ধরতে পেরেছে। অভিযুক্ত যেই হোক না কেনো, তাদের কোনো ছাড় নেই।