মেহেন্দীগঞ্জে এমপি পংকজ দেবনাথের বক্তব্যের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছেন তাঁর বিরোধীরা। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমাবেশে পংকজ দেবনাথকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘আপনি ভালো হয়ে যান, আমাদের গায়ে হাত তোলার নির্দেশ দেবেন না। আমরাও কিন্তু ছেড়ে দেব না। আপনি যদি ভালো হতেন, তাহলে আমরা আপনাকে ছেড়ে আসতাম না।’ শনিবার মেহেন্দীগঞ্জ শহরের মুক্তিযোদ্ধা পার্কে এই সমাবেশ হয়। এতে বিরোধী নেতাকর্মীরা পংকজকে ক্ষমা চাইতে বলেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র কামাল উদ্দিন খানকে হত্যার হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে এ সমাবেশ হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। তাঁদের হাতে ছিল লাঠিসোটা। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল পৌর শহর প্রদক্ষিণ করে। এদিকে, সমাবেশমুখী নেতাকর্মীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে পংকজ সমর্থকদের হামলার অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি ফাঁস হওয়া পংকজ দেবনাথ ও মেহেন্দীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তৌহিদুজ্জামানের মোবাইল কল রেকর্ডে মেয়র কামাল উদ্দিন খানকে রামদা দিয়ে কোপানোর কথা বলেছেন পংকজ দেবনাথ। চরগোপালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম সমাবেশে বলেন, তেঁতুলিয়া নদীর অপর তীরের চার ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নিতে ট্রলারে রওনা হন। নদীর মধ্যে এমপির লোকজন সাতটি স্পিডবোটে এসে ট্রলারগুলোতে বাধা দেন। তাঁদের ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন আহত হয়েছেন। চাঁনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহে আলম ঢালী জানান, তাঁর ইউনিয়নের মিছিল পৌর শহরের প্রবেশমুখ খেজুরতলীতে পৌঁছালে এমপির সমর্থকদের হামলার শিকার হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলাম সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাব আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহফুজুল আলম লিটন, আওয়ামী লীগ নেতা আ. জব্বার কানন, জামাল হোসেন মোল্লা, মিজানুর রহমান আরজু, সৈয়দ মনির প্রমুখ।

হরিনাথপুরে ১৪৪ ধারা :হিজলা উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নে ১৪৪ ধারা জারি করায় শনিবার সেখানে পংকজ দেবনাথ ও তাঁর বিরোধীরা সমাবেশ করতে পারেননি। দুই পক্ষের সভার নির্ধারিত স্থান গরুরহাট ময়দানে শনিবার সকাল থেকে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এমপিবিরোধী গ্রুপের নেতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান গরুরহাট ময়দানে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন। অন্যদিকে এমপির সমর্থক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান তৌফিকুর রহমান সিকদার একই স্থানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভার আয়োজন করেন। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বকুল চন্দ্র কবিরাজ শুক্রবার রাত ১১টায় এক ঘোষণায় শনিবার সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জরি করেন।