বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হলেও নির্বাচনী আচরণবিধি না মানার অভিযোগ প্রমাণীত হওয়ায় পদ হারালেন অভিনেতা জায়েদ খান। সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান।

আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির অফিসে আপিল বোর্ডের জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংএ জায়েদ খানের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানান সোহানুর রহমান সোহান।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান, মোহাম্মদ হোসেন, অভিযোগকারী নিপুণ।

তবে বৈঠকে হাজির হননি অভিযুক্ত জায়েদ খান ও চুন্নু। এই বৈঠকে উপস্থিত না থাকার কথা তিনি আগেই গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনের আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহানসহ চারজনকে আইনি নোটিশও দিয়েছেন জায়েদ খান।

বাকিরা হলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, আপিল বোর্ডের সদস্য মোহাম্মদ হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ব্যারিস্টার মুজিবুল হক ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এই আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

চলচ্চিত্রের সবগুলো সংগঠন প্রধান নির্বাচন কমিশনার পীরজাদা শহিদুল হারুনকে অবাঞ্চিত করায় বৈঠকে তাকে ডাকা হয়নি।

সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী জায়েদ খানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নিপুণ আক্তার। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি না মানার অভিযোগ এনেছেন ইসি পদে নির্বাচিত চুন্নুর বিরুদ্ধেও।

অভিযোগ আমলে নিয়ে শিল্পী সমিতির নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও সচিব বরাবর দিক নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন আপীল বোর্ডের চেয়ারম্যান সোহানুর রহমান সোহান। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফতর আপিল বোর্ডকে নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী আপিল বোর্ড সংশ্লিষ্টরা আজ শনিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির অফিসে জরুরি এক বৈঠক ডাকা হয়। এতে উপস্থিত থাকতে বলে আপিল বোর্ড চিঠি দেয় অভিযোগকারী সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নিপুণ, অভিযুক্ত জায়েদ খান ও চুন্নুসহ দুই নির্বাচন কমিশনার জাহিদ হোসেন, বি এইচ নিশান, শিল্পী সমিতির নব নির্বাচিত সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চনকে।

কিন্তু ৪টায় শিল্পি সমিতির অফিসে তালা ঝুলতে দেখা যায়। পরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির অফিসে আপিল বোর্ডের সভা হয়।

জায়েদ খান এ সম্পর্কে বলেন, ‘২৯ জানুয়ারির পর আপিল বোর্ডের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অবৈধ। নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টার পর থেকে আপিল বোর্ড মেয়াদ উত্তীর্ণ। তারা কি করে নির্বাচনের বৈঠক ডাকতে পারে, আমার তা প্রশ্ন। আপিল বোর্ড ২৯ তারিখ বিকেল ৫টার পর আপত্তি নিষ্পত্তি করেছে এবং নিপুণ পরাজয় মেনে নিয়ে স্বাক্ষর করে চলে গেছেন। এখানেই আপিল বোর্ডের কাজ শেষ। তারা এখন যা করছেন সব অবৈধ।’