গত শনিবার সন্তানের জন্ম দিয়েছে মেয়েটি। রোববার মারা যান তার বাবা। এর এক দিন পরই গতকাল মঙ্গলবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে। একদিকে শারীরিক অসুস্থতা, অন্যদিকে শোক- কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারেনি; বরং পড়াশোনার প্রতি তার তীব্র আগ্রহের কাছে হার মেনেছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়ার অদম্য এ শিক্ষার্থীর নাম আয়শা খানম। সে উপজেলার পূর্ব পয়সা গ্রামের আনিচ বক্তিয়ারের মেয়ে এবং বাগধা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী।
মঙ্গলবার সকালে আগৈলঝাড়া শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয় আয়শা। এ কেন্দ্রের পরিদর্শক উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহম্মদ আলম শোকাচ্ছন্ন আয়শাকে নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সমাজে হার না মানা দৃঢ় মনোবলের এমন মেয়ের নজির খুবই কম। যেখানে অনেক মেয়েই বিয়ের পরে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়, সেখানে এই শিক্ষার্থী বিয়ের পরও লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সন্তান জন্ম দেওয়ার এক দিন পরে তাঁর বাবার মৃত্যু হলেও পরীক্ষায় বসেছে।
শিক্ষার্থী আয়শা খানমের স্বামী পার্শ্ববর্তী কোটালীপাড়া উপজেলার চিত্রাপাড়া গ্রামের বীরবিক্রম ফায়েদুজ্জামান শেখের ছেলে রাকিবুল ইসলাম জানান, তিনি পেশায় ফল ব্যবসায়ী। এক বছর তিন মাস আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে তাঁর স্ত্রী আয়শা সংসারের কাজের পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে আসছিল। পরীক্ষা শুরুর আগের দিন শনিবার দুপুরে বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় সে। রোববার সকালে তার বাবা আনিচ বক্তিয়ার মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের কারণে মারা যান। সন্তান জন্ম দেওয়ার এক দিন পর বাবার মৃত্যু হলে পরিবার থেকে আয়শাকে পরীক্ষা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক শোক অতিক্রম করে আয়শা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা জানায় এবং সে অনুযায়ী মঙ্গলবার বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়।
পরীক্ষা শেষে আয়শা জানায়, তার পরীক্ষা মোটামুটি ভালোই হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক সমস্যার মধ্যেই নিজেকে শক্ত রেখে সে পরীক্ষায় অংশ নেয়। সমস্যা যতই হোক তা এক সময় কাটবেই; কিন্তু এ বছর পরীক্ষা দেওয়ার সময় আর থাকবে না বলেই সে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। সে সবার কাছে তার সন্তান ও বাবার জন্য দোয়া চেয়েছে।