অসহায় ছাত্রলীগ নেতাদের পাশে দাঁড়ানো সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান বাবু বঙ্গবন্ধুর আদর্শে রাজনীতি করতে​ এসে এখন লড়াই করছেন নিজের জীবনের সঙ্গে। প্যারালাইসিস হয়ে গেছে পুরো শরীরে, বেঁচে থাকতে নিরন্তর যুদ্ধ করতে হচ্ছে তাকে। এখন প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকার থেরাপি এবং ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার ঔষধ লাগে। জীবনযুদ্ধে লড়াই করা সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুতি জানিয়েছেন তার পাশে দাঁড়ানোর।

শুক্রবার সকালে দূরান্ত নিউজের সাথে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আমিনুর রহমান বাবুর কথা হয়েছে। এসময় সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা আবেগ তরান্বিত কন্ঠে বলেন, আওয়ামীলীগ পরিবারের জন্মগ্রহণ করার সুবাদে ছোটবেলা থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেছি। ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে নিজের বয়স বাড়লেও চাকরির চেষ্টা করিনি। ভেবেছি,বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করে মানুষের সেবা করবো। এভাবে চাকরির বয়সও শেষ হয়ে গেছে। পরে জীবিকা নির্বাহের তাগিদে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ঠিকাদারী শুরু করলেও প্যারালাইসিস হয়ে যাওয়ায় আমার জীবন তছনছ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অনেক আপনজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা আমার পাশে দাঁড়াননি!

তিনি বলেন, এখন প্রতি মাসে আমার ৫০ হাজার টাকার থেরাপি লাগে, ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঔষধ লাগে, চলাফেরাও করতে পারি না। আমার এক কন্যা সন্তান আছে। বাবা হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করা দূরে থাক, জন্মের পর থেকে তাকে একবার কোলে তুলে আদরও করতে পারিনি। নিজ চিকিৎসার খরচসহ পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছি। আর পারছি না! ডাক্তার বলেছে, আমি সুচিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে যাবো। আমি আমার সন্তানের জন্য সুচিকিৎসা নিয়ে বাঁচতে চাই। আমি চাই, আমাদের প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার বিষয়টি বিবেচনা করে আমাকে ‍সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করে পরিবার নিয়ে বাঁচতে সহায়তা করবেন।

নিজের পারিবারিক পরিচয় সম্পর্কে বাবু বলেন, পারিবারিকভাবে আমরা আওয়ামী লীগ করি। আমার আব্বু সাত্তার মিয়া ১৯৯৮ সালে পুলিশের চাকরি থেকে রিটায়ার করার পর ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি রত্নপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন। আমার চাচা যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতা।

নিজের ছাত্রলীগের রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুল জীবন থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতাম। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হওয়ার পর এইচএসসি মানবিক শাখার নির্বাচিত ছাত্রলীগ সভাপতি ছিলাম। ২০০১ -এর নির্বাচনের পর কলেজ এলাকার ৫৩ নং ওয়ার্ড (যেটা বর্তমানে ১৯ নং ওয়ার্ড) সেখানে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত আমি এ দায়িত্ব পালন করি। ওই সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির দুর্দিন ছিল। হাতেগোনা কর্মীও পাওয়া যেতো না। এরকম কঠিন সময়ে আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। ২০০২ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি।

নিজের দুর্ঘটনার বিষয়ে সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ছাত্ররাজনীতি করতে গিয়ে চাকরির চেষ্টা করিনি।এরপর আমি জীবিকা নির্বাহের তাগিদে ঠিকাধারী কাজে সম্পৃক্ত হই। সে সুবাধে ঠিকাধারীর কাজে শিক্ষা ভবনে গিয়েছিলাম। সেখানে ঘটলো আমার জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। ২০১৬ সালের ১১ই এপ্রিল শিক্ষাভবনের সবচেয়ে শক্তিশালী সিন্ডিকেট শফিক-মিজানের কোন্দলের বলি হলাম আমি। ওই দিন এই দুইবাহিনীর গোলাগুলির মাঝখানে আমি পড়ে যাই। সেখানে আমার মাথায় প্রচণ্ড ভাবে আঘাত করা হয়। সাথে সাথে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এরপর আমি মৃত্যুশয্যায়। শুরুতেই ১০ দিন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে ছিলাম। এরপর অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসা নিই। দুই গ্রুপের কোন্দলে ভুক্তভোগী আমাকে তারা দুই গ্রুপ সার্বিক চিকিৎসা করানোর আশ্বাস দেয়। শুরুর দিকে এক গ্রুপের নেতা শফিক চিকিৎসার খবর দিয়েছেন। এরপর আস্তে আস্তে তিনিও দূরে সরে যান। এদিকে এ পরিস্থিতিতে নিজের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পারিবারিক সম্পদ যা ছিল তাও শেষ হয়ে গেছে। বাবা রিটায়ার, ছোট ভাই পড়াশোনা করছে। এমতাবস্থায় আমাকে নিয়ে বাড়তি চাপ পরিবার নিতে পারছে না।

নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে বাবু বলেন, ওই দুর্ঘটনার আগে ২০১৪ সালে বিবাহ করি। আমার একটা কন্যা সন্তান আছে। বউ, সন্তানসহ নিজের পরিবারের জন্য কিছুই তো করতে পারছি না, এখন উল্টো পরিবারকে চাপে ফেলেছি। বর্তমানে আমার খুব দুর অবস্থা।একটা টাকাও ইনকাম নেই। এ অবস্থায় আমি কি করবো ?
নিজের বর্তমান শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে সাবেক এ ছাত্রলীগ নেতা বলেন, আমার শরীরের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। নিজে একা চলাফেরা করতে পারি না। এক্ষেত্রে আমাকে সার্বিক তত্ত্বাবধান করছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি বিষয়ক সম্পাদক (আপন ছোট ভাই) হাসিবুর রহমান। এছাড়া রাজনীতিসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজে সহায়তা করছেন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও বন্ধু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক মো. শিশির মজুমদার।

অশ্রুসিক্ত নয়নে বাবু বলেন, আমার ঔষধ ও থেরাপির খরচও দিন দিন বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতেও আপনজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধারাও আমার পাশে এসে দাঁড়াননি! এমতাবস্থায়, আমি কি করবো? কোথায় যাবো? তবুও আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বিষয়টি জানলে তিনি অবশ্যই আমার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।