সমঝোতার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নাগারনো-কারাবাখ অঞ্চলে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান। দুই পক্ষই একে অপরের প্রতি সমঝোতার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সত্যিকারে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিবাদপূর্ণ নাগোরনো-কারাবাখের মালিকানা ঘিরে প্রতিবেশী দুই দেশে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার সামরিক বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯০ এর দশকের পর এই অঞ্চলে এত বড় সংঘাত আর দেখা যায়নি।

গত দুই সপ্তাহে এ সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৩০০ জন। উভয়পক্ষের গোলা, রকেট ও ড্রোন হামলায় নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। এ সহিংসতার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

যুদ্ধ বন্ধে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অনুরোধ জানালেও তাতে রাজি হচ্ছিল না আর্মেনিয়া-আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার দুই দেশের নেতাদের কাছে ফোন করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এসময় তিনি আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মস্কোয় গিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানান। তার এ আহ্বানে সাড়া দিয়েই শনিবার আলোচনায় বসেছিলেন দুই দেশের মন্ত্রীরা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল থেকে মস্কোয় টানা ১০ ঘণ্টার আলোচনা শেষে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে পৌঁছায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান কর্তৃপক্ষ।

বৈঠক শেষে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই ল্যাভরভ জানান, ১০ অক্টোবর মধ্যরাত থেকেই এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। এই সুযোগে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান সংঘর্ষে নিহতদের মরদেহ এবং বন্দিদের বিনিময় করবে।

কিন্তু যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুই পক্ষ শর্ত লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছে।

আর্মেনীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, আজারবাইজান আর্মেনিয়ার মধ্যে একটি স্থাপনায় বোমা হামলা করেছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পাঁচ মিনিটের মাথায় আজারি বাহিনী আবারও সহিংস পদক্ষেপ শুরু করেছিল।

বিপরীতে আজারবাইজান দাবি করেছে, শত্রুপক্ষই শর্ত ভেঙে তাদের এলাকায় হামলা চালিয়েছে।

তবে আর্মেনিয়া-আজারবাইজান উভয়ই প্রতিপক্ষের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।