বরিশাল: আলু বেশি দামে ক্রয় করে খুচরা বাজারে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়েছেন আড়তদাররা। এ কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আলু ক্রয় করা বন্ধ রেখেছেন বরিশালের ৩৫ পাইকারি আড়তদার।

যে কারণে দুইদিন ধরে বরিশালের আড়ত ও বাজার অনেকটাই আলু শূন্য রয়েছে।

জানা গেছে, সরকার খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা দরে আলু বিক্রয়ের জন্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বরিশালের আড়তদাররা মুন্সীগঞ্জ, রাজশাহী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আলু কিনে আনে ৩২ থেকে ৩৩ টাকা কেজি দরে। যাতে খরচসহ ৩৬ টাকা কেজি দর হয় আলুর।

যে কারণে অভিযান এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে আলু বিক্রি সম্ভব না হওয়ায় আলু ক্রয় বন্ধ রেখেছেন পাইকারি আড়তদাররা।
বরিশালের পিঁয়াজপট্টি এলাকার পায়েল এন্টারপ্রাইজের মালিক এনায়েত হোসেন দূরন্তনিউজকে জানান, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আলু ক্রয় করে থাকি।

বর্তমানে প্রতি কেজি আলু কিনতে আমাদের খরচ হয় ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে আমাদের প্রতিদিন লাখ টাকা লোকসান গুণতে হয়। এ কারণে বর্তমানে আলু ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে।
বরিশালের পোর্ট রোড বাজারে আলু ক্রয় করতে আসা দীপক বলেন, পোর্ট রোড, ফরিয়া পট্টি, পিঁয়াজ পট্টি ও আলু পট্টি এলাকা ঘুরে কোথাও আলু পাইনি। পরে পোর্ট রোডের একটি মুদি দোকান থেকে তিন কেজি আলু ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনেছি।

পেঁয়াজ পট্টি আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মোল্লা দূরন্তনিউজকে জানান, প্রতিদিন হাজার হাজার কেজি আলু দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রয় করেন বরিশালের পাইকারি আড়তদাররা। তবে বেশি দামে আলু কিনে সরকার নির্ধারিত মূল্যে তা বিক্রি সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে আলু ক্রয় বন্ধ রয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম অজিয়র রহমান দূরন্তনিউজকে জানান, আমরা ধারণা করছি মজুদদাররা আলু মজুদ করে রাখছে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য। আশা করছি দুই থেকে চার দিনের মধ্যে এর সমাধান হবে।