যুবলীগের রাজধানীর মহাসমাবেশে অংশ নিতে সংগঠনের বরিশালের নেতাকর্মীরা সব লঞ্চ রিজার্ভ করেন। মালিকপক্ষ নিয়মিত শিডিউলের লঞ্চযাত্রা বাতিল ঘোষণা করেন। এতে গত বুধবার থেকে বরিশাল-ঢাকা নৌপথে অচলাবস্থা নেমে এসেছে। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতাসীনরা একইভাবে দু’দিনের জন্য এই নৌপথ অচল করে রেখেছিল। গত শনিবার বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান ধর্মঘট ডাকা হয়েছিল। ফলে রাজনৈতিক কারণে এক সপ্তাহের মধ্যে দু’বার বরিশালের নৌযাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হলো।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল মহানগর সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, ‘জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কখনও রাজনৈতিক দলের শিষ্টাচার হতে পারে না। ৭০ থেকে ৯০ দশক পর্যন্ত রাজধানীতে এর চেয়েও বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়েছে। বরিশাল থেকে নেতাকর্মীরা যেতেন। কিন্তু জনদুর্ভোগ হবে এমন কিছু তাঁরা করতেন না।’

জানা গেছে, বরিশালে দুই ভাগে বিভক্ত যুবলীগের নেতাকর্মীরা বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মোট ৯টি লঞ্চে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। আজ শুক্রবার ঢাকায় শোডাউন করে মহাসমাবেশে অংশ নেবেন তাঁরা। সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বে তাঁর অনুসারী ২০ হাজার নেতাকর্মী ৮টি লঞ্চে ঢাকায় গেছেন। এ তথ্য জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও প্যানেল মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন। অন্যদিকে মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন জানান, আহ্বায়ক নিজামুল হক নিজামের নেতৃত্বে ১টি লঞ্চ ও ১৭টি বাসে ২ হাজার নেতাকর্মী মহাসমাবেশে অংশ নিতে ঢাকায় গেছেন। যুবলীগের এই অংশটি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম এমপির অনুসারী।

পৃথকভাবে কেন ঢাকায় গেলেন জানতে চাইলে মাহমুদুল হক মামুন বলেন, ‘ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে মহানগর যুবলীগ বর্ধিত সভা করলেও এতে মেয়র অনুসারীরা অংশ নেননি, যোগাযোগও করেননি। কমিটির নেতৃত্বে থাকায় আমরা সাধ্য অনুযায়ী নেতাকর্মী সংগঠিত করেছি’। এ প্রসঙ্গে মেয়র অনুসারী রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমরা মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বে মহাসমাবেশে যাচ্ছি। নেতার (মেয়র) সঙ্গে অন্যদের যোগাযোগ হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।’

বৃহস্পতিবার সকালে লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ১০টি লঞ্চ পন্টুনে। এর মধ্যে ৮টি ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর অনুসারী মহানগর শ্রমিক লীগের পরিমল চন্দ্র দাস জানান, মেয়রের নেতৃত্বে ৮টি লঞ্চে তাঁরা ঢাকায় মহাসমাবেশে যাবেন।

বিআইডব্লিউটিএর ট্রাফিক কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে ঢাকায় গেছে দুটি লঞ্চ- সুরভী-৭ ও পারাবত-১১। নিয়মিত শিডিউলের অন্য দুটি লঞ্চ রিজার্ভ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে বুধবারের শিডিউলে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ৩টি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও একটিও যাত্রী পরিবহন করেনি। জানা যায়, বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে ওই লঞ্চগুলো যুবলীগ নেতাকর্মীকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। বুধবার রাতে বরিশাল থেকে ছেড়ে গেলে বৃহস্পতিবার সকালে খালি লঞ্চ আবার বরিশালে ফিরতে হতো। লোকসান এড়াতে লঞ্চগুলো বুধবার যাত্রী পরিবহন করেনি।

ট্রাফিক পরিদর্শক কবির হোসেন জানান, বরিশাল থেকে নিয়মিত শিডিউলের লঞ্চ না ছাড়ায় ঝালকাঠি থেকে সুন্দরবন-১২ লঞ্চ এখানে এনে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করেছেন ওই লঞ্চ কোম্পানির মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু।