চিকিৎসা, যানবাহন, ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের দ্বিতীয় বর্ষে মওকুফ করা ৬০০ টাকা ফি তৃতীয় বর্ষে ফের ধার্য করায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

এ সময় সব রুটে বাসসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হন। পরে দুপুর ২টার দিকে কলেজ অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নেন।

ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. রেজওয়ান জানান, কলেজ কর্তৃপক্ষ করোনাকালীন দ্বিতীয় বর্ষের বিভিন্ন খাতের ৬০০ টাকা ফি মওকুফ করেছিল। এসব শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষে উন্নীত হয়ে বৃহস্পতিবার ইনকোর্স ও টেস্ট পরীক্ষা দিতে আসেন। কলেজে এসে জানতে পারেন দ্বিতীয় বর্ষে মওকুফ করা ৬০০ টাকা ফি দিয়ে তাদের পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। কলেজ কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে তৃতীয় বর্ষের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী চরম বিপাকে পড়েন। পরীক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার ইনকোর্স পরীক্ষায়ও অংশ নেননি।

শিক্ষার্থী বিজন সিকদার দাবি করেন, ধার্য করা ৬০০ টাকা ফি মওকুফ করার জন্য কলেজ অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে জানান শিক্ষার্থীরা। অধ্যক্ষ তাদের কোনো জবাব দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টায় কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কর্তৃপক্ষ কোনো আশ্বাস না দিলে নথুল্লাবাদ টার্মিনালে গিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। দুপুর ২টায় তাঁদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে অবরোধ তুলে ক্যাম্পাসে ফিরে যান তাঁরা।

জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিক উল্লাহ মুনিম বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি কলেজ কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছেন। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের যে কোনো নায্য দাবির সঙ্গে ছাত্রলীগ পাশে থাকবে।

কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. গোলম কিবরিয়া বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। তারা অবরোধ তুলে নিয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করলে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ২টার পর অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। অবরোধ চলাকালে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।