বরিশালের উজিরপুরে ৪৪ হাজার কৃষকের মধ্যে ৩৬ হাজার কৃষক বোরো চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সম্প্রতি কয়েক বছর থেকে ধানের দাম ভালো পাওয়ায় এ মৌসুমে বোরো চাষে তাদের মাঝে বেশ উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের শরীরে রয়েছে হালকা শীতের পোষাক, মাথায় গরম কাপড়। কৃষান-কৃষাণিরা রয়েছে ফুরফুরে মেজাজে। কৃষকরা বীজতলা থেকে ধানের চারা তুরে তা রোপণ করছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, চলতি বছরে ১৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার মধ্যে উফসী জাতের বোরো ধান ২ হাজার ৪৯২ হেক্টর , হাইব্রিড জাতের ধান ১১ হাজার ২৭০ হেক্টর জমিতে । এ বছর ১৩ হাজার ৭৬২ হেক্টর জমিতে বোর চালের লক্ষ্য মাত্র ধরা হয়ছে ৭১ হাজার ৯৫৩ মেট্রিকটন । এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৫৪০ জন মানুষের জন্য ৪৪২ গ্রাম করে চালের প্রয়োজন ৪৮ হাজার ৩২৫ মেট্রিকটন। গত বছর চালের চাহিদা মিটিয়ে ২৯ হাজার ৪০০ মেট্রিকটন উদ্ধৃত ছিলো। কৃষি অফিস থেকে ৬ হাজার ৫০০ জন কৃষককে ২ কেজি করে বীজ, উফসী বোর ১ হাজার ৪০০ জনকে ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডি.এপি ১০ কেজি করে এমওপি সার ও বীজ প্রনোদনা দিয়েছে। সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করছে সারের ডিলাররা এমন অভিযোগ কৃষকদের। সরকারের নির্ধারিত মূল্যে খুচরা সার বিক্রতাদের ইউরিয়া ১৬, ডিএপি ১৬ এমওপি ১৫ ও টিএসপি ২২ টাকা দামে কৃষকদের কাছে বিক্রী করার নির্দেশণা দিলেও সেই নির্দেশনা মানছে না সারের ডিলাররা। বোর চাষে কৃষকরা প্রতি হেক্টরে সার দিচ্ছে ইউরিয়া ২০০ কেজি, ডিএপি ১৫০ কেজি, এমওপি ১২০কেজি, দস্তা ৮ কেজি, ও জিপসাম ৮০ কেজি। কৃষক লিয়াকত, হারুন, বাদল সহ একাধিক কৃষক জানান, কৃষি অফিস থেকে সার ও বীজ প্রণোদনা পেয়েছি। এবছর আমরা প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে বোর আবাদ করেছি। ভালো দাম না পেলে এবার লোকসান হলে এই করোনার ভিতর বিপদের সম্মুখিন হতে হবে। সারের ডিলারদের সরকার যে দামে সার বিক্রী করতে বলে সেই দামে আমরা সার পাইনা। যার কারনে বোর চাষে একটু খরচ বেশি হয়েছে। কৃষক মোজ্জামেল জানান, সরকার সঠিক ভাবে মনিটরিং করলে কৃষকদের কাছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সরা বিক্রী করতে পারবেনা অসাধু ব্যবসায়ীরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: তৌহিদ বলেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবং কোন দূর্যোগ না হলে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে বোরো আবাদ হবে এবং উৎপাদনও বাড়বে । কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের সকল ধরনের সহায়তা করা হবে বলে আশ^াস দেন। আর সারের অতিরিক্ত মূল্যর ব্যপারে বলেন, সরাকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কোন ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে বেশি দাম রাখে তাহলে সেই সারের ডিলারের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।