উজিরপুর উপজেলা গুঠিয়া ইউনিয়নে দোসতিনা গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ একটি লোহার সেতু ভেঙে খালে পড়ে আছে কয়েক মাস ধরে। ভোগান্তিতে পাঁচটি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষ। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫ শ লোক যাতায়াত করেন। এদিকে জনপ্রতিনিধিরা ব্যস্ত তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন নিয়ে। শেষ পর্যন্ত জনদুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে এসেছে জ্ঞানের পাঠশালা নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

গত রোববার জ্ঞানের পাঠশালার কর্মীরা স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে যাতায়াতের জন্য ভাঙা সেতুতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. দেলোয়ার হোসেন নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০১৫-২০১৬ সালে দোসতিনা খালের ওপর ২০ মিটারের একটি লোহার সেতু নির্মাণ করে দেন। লোহার ওই সেতুটি নির্মাণের জন্য ত্রাণের একটি ব্রিজের টেন্ডার আহ্বান করেছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। কিন্তু বরিশালের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেলেও সেতুটি নির্মাণ করেনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না এই বলে কাজ না করায় সেতু নির্মাণের বরাদ্দের ৩০ লাখ টাকা ফেরত গেছে মন্ত্রণালয়ে।

জ্ঞানের পাঠশালার সভাপতি শহীব আব্দুর রব সেরনিয়াবাত টিচার্স ট্রেনিং কলেজের শিক্ষার্থী রাইসা বিনতে উর্মি বলেন, লোহার সেতুটি ভেঙে ৫-৬ মাস পর্যন্ত খালের ওপর পড়ে আছে। ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পাড় হতো স্কুলের শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন। তাই জ্ঞানের পাঠশালার সব স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে নিজেদের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো দিয়ে সেতুটিতে সাময়িক চলাচলের ব্যবস্থা করেছি।

গুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সেতুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই নিজের অর্থায়নে ৬-৭ বছর পূর্বে ব্রিজটি নির্মাণ করে দিয়েছি। হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা অয়ন সাহা বলেন, ব্রিজটি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমরা ত্রাণের ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি সেতুর টেন্ডার কল করেছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার কাজটি না করায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত গেছে টাকা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণতি বিশ্বাস বলেন, ঠিকাদার কাজ না করায় তার কার্য আদেশ বাতিল করে টাকা ফেরত গেছে মন্ত্রণালয়ে। এ বছর চেষ্টা করছি পুনরায় সেতুটি নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নিতে।