মাগুরায় গলায় ফাঁস দিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করা খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) খন্দকার লাবণীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শ্রীপুর সদর ইউনিয়নের সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়িতে প্রথম জানাজা এবং পরে নিজ বাড়ি কাদিরপাড়া ইউনিয়নের বরালিদহ গ্রামে দ্বিতীয় জানাজা শেষে রাত পৌনে ১১টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মাগুরার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে খন্দকার লাবণীর মরদেহ সারঙ্গদিয়া গ্রামে আনা হয়। বুধবার দিবাগত রাতে এই বাড়িতেই একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গতকাল সন্ধ্যায় খন্দকার লাবণীর মরদেহ যখন সারঙ্গদিয়া গ্রামে পৌঁছায়, তখন আত্মীয়স্বজন কান্নায় ভেঙে পড়ে। জানাজা শেষে লাবণীর বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক খন্দকার শফিকুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে মেয়েকে মানুষ করেছিলাম। এখন বয়স হয়েছে। আর কত দিন এভাবে বেঁচে থাকব। এখন এই ছোট্ট দুটি নাতনিকে (খন্দকার লাবণীর দুই মেয়ে। একজনের বয়স চার বছর, আরেকজনের আট বছর) কীভাবে মানুষ করব সেটাই ভাবছি।’

এর আগে মেয়ের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে খন্দকাল শফিকুল আজম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘কিছুদিন ধরে লাবণী ও তাঁর স্বামীর মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির কারণে দ্বন্দ্ব লেগে ছিল। এ কারণে একে অপরকে এড়িয়ে চলছিল। স্বামী-স্ত্রীর এই দ্বন্দ্বে সে আত্মহত্যা করেছে। সে এর ১৫ দিন আগে ও সপ্তাহখানেক আগে দুবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।’

গত বুধবার রাতে মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের সারঙ্গদিয়া গ্রামে নানাবাড়ি থেকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) এডিসি খন্দকার লাবণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি বিসিএস পুলিশের ৩০তম ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৭ জুলাই সাত দিনের ছুটি নিয়ে তিনি কর্মস্থল খুলনা থেকে গ্রামের বাড়ি মাগুরায় বেড়াতে যান। তাঁর স্বামী তারেক আবদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে কর্মরত। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে এখন ভারতে চিকিৎসাধীন।


এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাগুরা পুলিশ লাইনসে নিজের নামে ইস্যু করা অস্ত্রের গুলিতে ‘আত্মহত্যা’ করা কনস্টেবল মাহমুদুল হাসানেরও (২৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিপুলবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন হয়।
মাহমুদুলের পারিবারিক সূত্র বলছে, কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেন মাহমুদুল। কলেজে লেখাপড়া করা অবস্থায় প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন তিনি। প্রশিক্ষণ শেষে যোগ দেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশে।

মাগুরার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, কনস্টেবল মাহমুদুল দেড় মাস আগে মাগুরায় বদলি হন। এর আগে তিনি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি খন্দকার লাবণীর দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দুটি ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এটুকু নিশ্চিত, দুজনেই আত্মহত্যা করেছেন। দুজনের আত্মহত্যার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে।