ঢাকা: জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানবপাচার একটি ভয়াবহ অপরাধ এবং মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর সর্বাত্মক আক্রমণ।

শনিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, দুঃখজনকভাবে এটি এমন একটি সমস্যা, যা দিন দিন বাড়ছে, বিশেষ করে নারী ও মেয়েশিশুদের ক্ষেত্রে, যারা মানবপাচারের শিকার বৈশ্বিকভাবে চিহ্নিত মানুষদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ।

সংঘাত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, জলবায়ু পরিবর্তন, অসমতা ও দারিদ্র বিশ্বজুড়ে লাখো-কোটি মানুষকে নিঃস্ব ও বিচ্ছিন্ন করেছে এবং ঝুঁকিতে ফেলেছে।

কোভিড-১৯ মহামারি শিশু-কিশোর ও তরুণদের বন্ধু ও সহকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। ফলে তারা আরও বেশি একাকী সময় পার করছে এবং অনলাইনে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ছে।

মানব পাচারকারীরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত, শনাক্ত, নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করে এই দুর্বলতাগুলোর সুযোগ নিচ্ছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা ও মানুষ জোগাড় করছে। ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে তারা নিজেদের পরিচয় লুকানোর সুযোগ পাচ্ছে, পাশাপাশি তারা শিশুদের যৌন হয়রানি করে এমন বিষয়সহ ক্ষতিকর বিষয়গুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তি ভোক্তাদের পরিচয় গোপন রেখে ক্রমেই আরও বেশি বিপজ্জনক ও হানিকর কন্টেন্টের চাহিদা জানানোর সুযোগ করে দিচ্ছে, যা মানবপাচারকে উসকে দেয়।

এ বছরের মানবপাচার বিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রযুক্তির ব্যবহার ও অপব্যবহার’ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি যেমন মানবপাচারের পথ সুগম করে, একইভাবে এটি মানবপাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হতে পারে।

সরকার, নিয়ন্ত্রক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজকে একযোগে কাজ করে এমন নীতিগত, আইনি ও প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান বের করা প্রয়োজন, যা মানবপাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের চিহ্নিত ও সহায়তা দিতে অপরাধীদের ধরতে ও সাজা দিতে এবং সবার জন্য নিরাপদ, উন্মুক্ত ও নিরাপত্তা-সংবলিত ইন্টারনেট নিশ্চিত করবে।

২০২৩ সালের সামিট অব দ্য ফিউচারের অংশ হিসেবে ডিজিটাল মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমি গ্লোবাল ডিজিটাল কমপ্যাক্টের প্রস্তাব করেছি।

মানবপাচার সমূলে উৎপাটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই দিবসে আমি বিশ্ববাসীর প্রতি এই বিষয়ে মনোযোগ দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং কাজ করতে আহ্বান জানাচ্ছি।