রাজশাহী: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বীরকুৎসা রেলস্টেশনের পাশে খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান এলাকাবাসী। তবে তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিলো না।

মরদেহের পাশে একটি বন্ধ মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন তা চালু করে পরিচয় উদ্ধারের চেষ্টা করেন। পরে সেই মোবাইল ফোন থেকে পরিবারের লোকজনদের খবর দেওয়া হয়।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে উপজেলার বীরকুৎসা রেললাইনের পাশে মরদেহটি দেখতে পান স্থানীয়রা।

ওই ব্যক্তির নাম রফিকুল ইসলাম (৫২)। তিনি বাগমারার যোগীপাড়া ইউনিয়নের বাজেকোলা গ্রামের কৃষক। ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে পরিবার ও এলাকার লোকজন জানিয়েছেন।

পরিবারের লোকজন জানান, রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন রফিকুল ইসলাম। বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি। পরিবারের লোকজন তাঁর সন্ধানের চেষ্টা করেও পাননি। মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করেও অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সোমবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে রফিকুলের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

রফিকুল ইসলামের স্ত্রী তানজিলা খাতুন বাংলানিউজকে জানান, তার স্বামী জমি বিক্রি করে, ঋণ নিয়ে ও জমানো টাকা খরচ করে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়েছিলেন। তবে প্রতারিত হয়ে দেশে ফেরার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এসব চাপে তার স্বামী ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে তিনি মনে করছেন। তাদের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিলো না।

জানতে চাইলে যোগীপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রহিম বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। তবে ঘটনাস্থল থানার আওতাধীন হলেও তা রেলওয়ে পুলিশ দেখভাল করে। সেখানে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হবে।