বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ২নং হারতা ইউনিয়নে দক্ষিণ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় মাছের আড়তে ডাকাতির পাঁচ বছরেও এর রেস কাটেনি। আড়তে এত দিনে বিক্রি অর্ধেকে নেমে এসেছে। বরিশালের দক্ষিন অঞ্চলের ভিতর এটিই বড় মাছের বাজার । ২০১৬ সালে ২০ নভেম্বর সন্ধ্যায় একদল ডাকাত অর্তকির্ত হামলা চালিয়ে কোটি টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এসময় ওই বাজার কমিটির সভাপতি সোহরাব বেপারী ডাকতদলের গুলিতে নিহত হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এরপর থেকেই এই বাজারে বিক্রির ধস নামে। ডাকাতির ৫ বছর হলেও এর রেস এখনো কাটাতে পারেনি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আশেপাশের ৬/৭টি উপজেলার মাছ নিয়ে আসতো এই বাজের। বর্তমানে সাতলা ও পয়সার হাটে মাছের বাজার হওয়ায় মাছ বিক্রি কমেছে। দেশীয় প্রজাতির মাছসহ সবধরনের সাদা মাছের জন্য খ্যাতি আছে উজিরপুর-সাতলা সড়কের হারতা মাছ বাজারের। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মাছ কেনা-বেচা হয় এ হাটে। কার্তীক, পৌষ, মাঘ এই তিন মাসে মাছের সিজন হিসাবে ধরা হয়। তখন এই বাজারে ২০টি মাছের আড়তে দুই ঘন্টা বাজারে ২৫ থেকে ৩০ থেকে লাখ টাকা লেনদেন হয়। বাকি ৮ মাসে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় মাছ আড়তদার মাইনুল মাঝি জানান, ডাকাতির পর এই হাটে বেচা-কেনা আগের চয়ে কমে গেছে। ডাকাতি হওয়ার আগে এই বাজারে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা লেনদেন হতো। সেখানে বর্তমানে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাগদা, গলদা, রুই, কাতলা, পাঙ্গাস, ব্রিগেট, মিনার কার্প, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, থাই পুটি, তেলাপিয়া, শিং, কৈ, শোল, টাকি, বাইলা, রয়না (ভেদা) মাগুরসহ অর্থশতর অধিক ধরনের মাছ আসে এ হাটে। ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই হাটের মাছ বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কথা বলার সময় পযর্ন্ত থাকে না। কেউ নৌকা থেকে মাছ বাজারে ওঠাচ্ছেন, কেউ মাছ ঢালছেন, কেই মাপযন্ত্রে উঠিয়ে ওজন দিচ্ছেন, আড়তদার হিসাব লিখতে ব্যস্ত থাকছেন। আবার বিক্রি হওয়ার পর মাছ উঠছে অন্য গাড়িতে। প্রায় ৩০০ মিটার দীর্ঘ হারতা বাজার ‘মাছের গল্লি’ নামে পরিচিত। মাছের বাজারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে সময় লাগবে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। হাটের ব্যবসায়ীরা জানান, এ হাটে প্রায় ২০ ধরনের মাছের আড়ত রয়েছে। বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব ধরনের মাছ বিক্রি হয়। শতশত পাইকারি ও খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক ও দরকষাকষিতে মুখরিত থাকে হাট। গত সাত থেকে আট বছরের এই বাজারটিকে কেন্দ্র করে এই এলাকা অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কয়েক’শ মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ী মো. ইউসুফ মোল্লা জানান, এ বাজারে খুচরা বেচা-কেনা হয় না বললেই চলে। সব মাছই পাইকারি কেনা-বেচা হয়। মাছের দাম পরিবর্তনশীল, তাই মাছের দাম ওঠানামা করে। বাজারে বর্তমানে প্রতিমণ রুই ও কাতলা আকারভেদে সাড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা, তেলাপিয়া ৪ হাজার টাকা, কার্প জাতীয় মাছ ৩ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, পাঙ্গাস আকারভেদে ৩ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ পর্যন্ত, ব্রিগেট জাতীয় মাছ ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা, চিংড়ি আকার এবং মানভেদে ৩০ হাজার থেকে ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। হারতা মাছ বাজারের আড়তদার সমিতির সভাপতি নরেন্দ্র নাথ বাড়ৈ বলেন, সবচেয়ে বড় দেশীয় মাছের পাইকারি বাজার এটি। ডাকাতির পর এই হাটে বেচা-কেনায় অনেকটা কমে এসেছে। প্রতিদিন গড়ে ২০টি আড়ত মিলে এখন ১০থেকে ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়। বর্তমানে বাজারে মাছের আমদানি কম। তারপরও প্রতিদিন গড়ে এক হাজার মণ মাছ বেচা-কেনা হয়। এছারা ডাকাতির পর সাতলা ও পয়সারহাটে মাছের নতুন আড়ত হওয়ায় বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে। জানা গেছে, বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন প্রায় ৩৫০ শ্রমিক কাজ করছে। এর পাশাপাশি ২০টি আড়তে আরো শতাধিক লোক কাজ করছে। এ ছাড়া উজিরপুর, আগৈলঝাড়া, বানারীপাড়া, টুঙ্গীপাড়া, নাজিরপুর উপজেলার বিলাঞ্চলসহ আশপাশে সাদা মাছ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর সাথে কয়েক শ পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে। আর বিক্রি হওয়া মাছের অধিকাংশই ট্রাকের মাধ্যমে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, ফেনী, সিলেট, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।