উজিরপুর(বরিশাল) প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর পৌরসভা নির্বাচনে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনিত মেয়র প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সর্বপ্রথম আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বেপারী নেতাকর্মীদের নিয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মঙ্গলবার বেলা ১২ টায় দলিয় কার্য্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে উপজেলা নির্বাচন অফিসের কার্যালয়ের সামনে এসে আচারনবিধি মেনে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারী নিয়ে উপজেলা নির্বাচন ও রির্টানিং অফিসার আলিমুদ্দিনের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এস এম জামাল হোসেনসহ দলের নেতাকর্মীরা। অপরদিকে দুপুর ২ টায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনতি প্রার্থী কাজী শহীদুল ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। এরকিছুক্ষন পর বিকাল ৩ টায় বিএনপি থেকে মনোনিত প্রার্থী শহীদুল ইসলাম খান তার দলীয় নেতার্কমী নিয়ে উপজেলা রির্টানিং অফিসার আলীমুদ্দিনের কাছে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। মনোনয়ন পত্র দাখিলের আগ মূহুর্তে প্রত্যেক দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ দলের ¯েøাগানে মুখরিত করেছে উজিরপুর পৌরসভার প্রধান সড়ক। উপজেলা রির্টানিং অফিসার আলী মুদ্দিন জানান, সকল প্রার্থীরাই আচারনবিধি মেনে আমার কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।


শফিক শাহিন,বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি॥ বরিশালের বানারীপাড়ার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহা বলেছেন সাংবাদিকরা হচ্ছেন জাতির বিবেক, তারা দুর্নীতি ও অনিয়মসহ অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরে দেশ ও জাতির মাঝে। প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ এসময় উপজেলা প্রশাসনের সকল ইতিবাচক কাজ ও বানারীপাড়ার সার্বিক উন্নয়নে তাকে পাশে থাকার আশ্রাস দেন। ১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বানারীপাড়া প্রেসক্লাব সভাপতি রাহাদ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মফিজুর রহমান,উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মহসিন-উল-হাসান,প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা এটিএম মোস্তফা সরদার,সহ-সভাপতি কাওসার হোসেন ও প্রভাষক মামুন আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লা,নির্বাহী সদস্য সাইদুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক শাহিন প্রমুখ। প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কে এম শফিকুল আলম জুয়েলের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী সদস্য এস.এম. গোলাম মাহমুদ রিপন,সহ-সভাপতি জাকির হোসেন,সাইফুর রহমান রাসেল ও জাহিন মাহমুদ,যুগ্ম সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ শাওন,সহ-সম্পাদক মাইদুল ইসলাম শফিক,সদস্য নাহিদ সরদার প্রমুখ। সভার শুরুতে বানারীপাড়ার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন কুমার সাহাকে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নে থেকে মঙ্গলবার (১লা ডিসেম্বর) বিপুল পরিমাণ গাঁজা, মদ ও নগদ টাকা সহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলি্শ।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস আই মাহাবুব এর নেতৃত্বে উজিরপুর একদল চৌকশ পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় দক্ষিন সানুহার জামে মসজিদ সংলগ্ন বাবুল হাওলাদার এর মালিকানাধীন এক তলা বিশিষ্ট ভাড়া দেয়া পাকা বসত ঘরের পশ্চিম পাশের রান্নাঘরের কক্ষে সানসেটের উপর হতে ৩ কেজি ৮৬০ গ্রাম গাঁজা ও মাদক বিক্রয়ের ২৮০০০ টাকা সহ মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার আনোয়ার বেপারী ও তার স্ত্রী মোসাঃ খাদিজা বেগম (২৪) কে গ্রেফতার করে।
এ বিষয়ে এস আই মাহাবুব জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে মাদ্ক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে । ভবিষ্যতে এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে।

৪২তম ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (৩০ নভেম্বর) রাতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ওয়েবসাইটে এ দুই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

পিএসসি সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৪২তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৭ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে অনলাইন আবেদন শুরু হবে। চলবে ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রার্থীরা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আবেদনের ফি জমা দিতে পারবেন।

এ বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে দুই হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হবে। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে। এই বিসিএসের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩২ বছর।

এদিকে ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৮১৪ জন কর্মকর্তা নেয়া হবে।

এর মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারে ৩০০ জন, পুলিশ ক্যাডারে ১০০ জন, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫ জন, শিক্ষা ক্যাডারের জন্য ৮৪৩ জন, অডিটে ৩৫ জন, তথ্যে ২২ জন, ট্যাক্সে ১৯ জন, কাস্টমসে ১৪ জন ও সমবায়ে ১৯ জন নিয়োগ দেয়া হবে।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ৪৩তম বিসিএসের অনলাইন আবেদন শুরু হবে। আবেদনের শেষ তারিখ ২০২১ সালের ৩১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা।

এর আগে ৩৯তম বিসিএসে (বিশেষ) ২০০ নম্বরের এমসিকিউ এবং ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে পাঁচ হাজারের মতো চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

বিশেষ সুবিধা এবং ছাড় দেয়ার ফলে কমে এসেছে ব্যাংক খাতের ‘প্রধান সমস্যা’ খেলাপি ঋণের পরিমাণ। তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ৭২৬ কোটি টাকা কমে ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। যা জুন মাস শেষে ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ।

চলতি বছরের মার্চ থেকে দেশে শুরু হয় মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপ। এর প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেরও নানা খাতে এক প্রকার সংকট তৈরি হয়। এই সংকটকালে ঋণখেলাপিদের আরও সুবিধা দেয় সরকার। সরকারি সুবিধার ফলে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তি না দিলেও খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে না।


২৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা সেই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের কোনো কিস্তি পরিশোধ না করলেও গ্রহিতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হবেন না। এ সময়ের মধ্যে ঋণ/বিনিয়োগের ওপর কোনোরকম দণ্ড, সুদ বা অতিরিক্ত ফি (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আরোপ করা যাবে না।

২০১৯ সালের ১৬ মে ঋণখেলাপিদের মোট ঋণের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয় সরকার। সরকারের দেয়া ‘বিশেষ’ ওই সুবিধার আওতায় জুন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলো নবায়ন করে, যার অর্ধেকই করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিয়েও গত বছর বিপুল পরিমাণ খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে, যার পরিমাণ ৭৫ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে জুন পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করেছে ব্যাংকগুলো। অর্থাৎ এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণের হিসাব থেকে এই অর্থ বাদ যাবে, যদিও তা সহসাই ফেরত আসছে না ব্যাংকগুলোর কাছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, গত তিন মাসে মোট খেলাপি ঋণ প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা কমে এসেছে, যা সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০০ জন ঋণগ্রহিতা আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়ে রেখেছেন। ফলে ঋণ খেলাপি হিসেবে তাদের নাম বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরোতে (সিআইবি) উল্লেখ করা হচ্ছে না। এ রকম ঋণের পরিমাণ এখন ৮০ হাজার কোটি টাকার মতো।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ দূরন্ত নিউজকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি, সেটাই অনেক। এর মধ্যে তিন মাসে মাত্র দুই হাজার কোটি কমাটা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে না। তবে আরও কিছু সময় দেখে বোঝা যাবে অবস্থাটা কেমন দাঁড়াবে। কমে আসাটা ইতিবাচক। হয়তো নতুন ঋণে শর্ত যোগ হওয়ায় বড় খেলাপিরা কমিয়ে দিচ্ছে নতুনটি পাওয়ার আশায়। আবার ব্যাংকারদের কড়াকড়ি আরোপও কমে আসার আরেকটি কারণ হতে পারে।’

সাবেক এই গভর্নর দূরন্ত নিউজকে আরও বলেন, ‘এখন খেলাপিদের অনেকেই ঋণ পুনঃতফসিলের মাধ্যমে নতুন করে প্রণোদনার ঋণ নিতে চাচ্ছেন। ফলে ডাউন পেমেন্ট হিসেবে কিছু টাকা আদায় হয়েছে, এটা খুব বেশি বলা যাবে না। তাছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের ঋণ আদায়ে শিথিলতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ সময় শেষে মোট খেলাপি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।’

ঢাকা: যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কিনে দেশের মানুষকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

প্রত্যেকের জন্য দুই ডোজ ভ্যাকসিন দরকার। তাহলে দেশের দেড় কোটি মানুষ বিনামূলে এই টিকা পাবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার (৩০ নভেম্বর) সচিবালয়ে ভার্চ্যুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে কোভিড-১৯ সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবিলা ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের সবশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ডের কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে তিন কোটি ডোজ বিক্রির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সঙ্গে সিরাম ইনস্টিটিউট ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক সই হয়।
এরপর ১৬ নভেম্বর অর্থ বিভাগ ভ্যাকসিন কেনার জন্য স্বাস্থ্যসেবা বিভাগকে ৭৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য অর্থনৈতিক ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব পাঠাবে। এ প্রস্তাব চলে এসেছে।

তিনি বলেন, মানুষকে এই ভ্যাকসিন বিনা পয়সায় দেওয়া হবে। টাকা সরকার পে করে দিচ্ছে। তিন কোটি ডোজ ভ্যাকসিন ফ্রি দেওয়া হবে।

ভ্যাকসিন বিতরণ নিয়ে দুর্নীতি হলে ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মেজর করাপশন কেউ করলে আমাদের জানাবেন, আমরা তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবো।

ভ্যাকসিন কিনতে সরকারের খরচ কত হবে- প্রশ্নে তিনি বলেন, ক্রয়ের চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না।

এই ভ্যাকসিন কারা পাবে- প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটা গাইডলাইন আছে। প্রথম কারা পাবে, দ্বিতীয় ধাপে কারা পাবে সে অনুযায়ী তারা একটা প্রোগ্রাম ডেভেলপ করছে। ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কার- পুলিশ, প্রশাসনের লোক যারা মাঠে চাকরি করছে, তারপর বয়স্ক লোক, বাচ্চা- এরকম একটা প্রোটোকল আছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৪ অক্টোবর ভ্যাকসিন কেনার জন্য অনুমোদন দিয়েছেন। বুধবার অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে আসবে।

অন্য ভ্যাকসিনের সবশেষ নিয়ে তিনি বলেন, আরও অনেকগুলো ভ্যাকসিনের বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারা বলেছে যোগাযোগ রাখছে। এখনই বলা যাচ্ছে না কোনটা বেশি ইফেকটিভ হবে। আমাদের এক নম্বর কন্ডিশন হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল মানতে হবে। যার সঙ্গে চুক্তি করবেন, যদি মেজর কোনো সমস্যা হয় তাহলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকলের বাইরে গেলে ওই চুক্তির কোনো মূল্য থাকবে না।

চীনের ভ্যাকসিন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রিজেক্ট করেনি। ওরা একটা টাকা চাচ্ছে। সরকার এখনও দেয়নি বা অ্যাগ্রি করেনি। আমরা ওটা এখনও বাতিলও করিনি। প্রথমে টাকা চায়নি, এখন টাকা চাচ্ছে।

করোনাকে আমার কাছে কেন যেন আল বদর আল শামসের মতো মনে হয়। করোনাকালীন সময়টা যেন একাত্তরের ডিসেম্বর। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদাররা যখন বুঝে যায় পরাজয় অনিবার্য। তখন তারা পরিকল্পনা করলো বাঙালি জাতিকে পঙ্গু করে দেয়ার, স্বাধীনতা পেলেও যেন এই জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে। পাকিস্তানিরা খারাপ হলেও তারা জানে, একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার বুদ্ধিবৃত্তিকে ধ্বংস করলেই হয়। বিবেক, বুদ্ধি, চিন্তাই অন্য প্রাণী থেকে মানুষদের আলাদা করে, এমনকি মানুষ থেকে মানুষকে আলাদা করে। পাকিস্তানি হানাদাররা তাই তালিকা করলো এবং সেই তালিকা তুলে দিল আল বদর আল শামসের হাতে। নৃশংস সেই দেশীয় বাহিনী বিজয়ের আগের সপ্তাহে তালিকা ধরে ধরে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের বাড়ি থেকে তুলে নিল, তাদের কেউ আর ফিরে আসেননি। তাই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আনন্দকে ম্লান করে দেয় দুদিন আগের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে স্বজন হারানোর বেদনা।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাও যেন আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক জগৎ শূন্য করে দিতে এসেছে। একে একে চলে গেছেন ড. আনিসুজ্জামান, কামাল লোহানী, জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, আবুল হাসনাত, খন্দকার মুনীরুজ্জামান, আলী যাকের। মৃত্যু এক অমোঘ পরিণতি। আগে আর পরে সবাইকেই যেতে হবে। করোনাকালে যারা চলে গেছেন, তাদের অকাল মৃত্যু বলা যাবে না। তবুও করোনা না এলে হয়তো আরো কিছুদিন তারা আমাদের মাথায় ছায়া হয়ে থাকতেন।

এখন সময় রুখে দাঁড়ানোর। এই বাংলাদেশে মৌলবাদীদের আর এক ইঞ্চিও ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। রুখে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের সময়ই আমরা একে একে হারিয়ে ফেলছি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের; আমাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে, আমাদের ভরসা হয়ে ছিলেন যারা। আলী যাকের নেই; জাতির দুঃসময়ে, রুখে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কে আর হাঁক দেবে- জাগো বাহে কুনঠে সবায়…।

শেষ দুটি মৃত্যু নিয়ে বলি। ২৪ নভেম্বর সকালটা শুরু হলো দৈনিক সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক খন্দকার মুনীরুজ্জামানের মৃত্যু সংবাদ দিয়ে। লিখলাম বটে সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, তবে আমি মুনীর ভাইকে চিনতাম সিপিবির নেতা হিসেবে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে পুরানা পল্টন মোড়ের সিপিবির সেই খোলামেলা অফিসে তাকে দূর থেকে দেখতাম। মোর্শেদ ভাই একটা ফিফটি সিসি চালাতেন। মুনীর ভাইও কি একটা ছোট মোটরসাইকেল চালাতেন? মুনীর ভাইয়ের গোটা জীবনটাই সংগ্রামের, লড়াইয়ের। মুক্তিযুদ্ধ তো করেছেনই, মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে সব প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সামনের কাতারেই ছিলেন খন্দকার মুনীরুজ্জামান। করেছেন শ্রমিক রাজনীতি। মেহনতি মানুষের মুক্তিই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য।

রাজনীতি যে নীতির রাজা, রাজা হওয়ার নীতি নয়; অল্প যে কজন মানুষ সে বিশ্বাস নিজের জীবনে ধারণ করতেন; মুনীর ভাই তাদের একজন। সমাজতন্ত্রের পতনে রাজনীতি ছাড়লেও আদর্শ ছাড়েননি। জীবনের শেষটা তার কেটেছে মানুষের মুক্তির জন্য লেখালেখি করে। লেখায়, চলনে, বলনে, চিন্তায় তিনি মুক্তিযুদ্ধ, অসাম্প্রদায়িকতা, প্রগতিশীলতাকে ধারণ করতেন। প্রচলিত রাজনৈতিক ধারায় আস্থা হারালেও স্বপ্ন হারাননি। মানুষের ওপরই ছিল তার আস্থা। আমাদের বুদ্ধিজীবীদের বেশিরভাগের বিবেকই কোনো না কোনো দলের কাছে বন্ধক দেয়া। মুনীর ভাই সেখানে ছিলেন উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তিনি যা সত্য, ন্যায্য তাই বলতেন। তার চাছাছোলা আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি কোনো দলই।

মুনীর ভাইয়ের মৃত্যুর দুদিন পর ২৭ নভেম্বর ঘুম ভাঙলো আরেক ধাক্বায়। আলী যাকের আর নেই। আলী যাকের রাজনীতি করতেন না বটে। তবে মুক্তিযুদ্ধের আগে-পরে সব প্রগতিশীল ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে আলী যাকের ছিলেন অনিবার্য নাম। একাত্তরে ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর শুরু হয় আরেক যুদ্ধ- যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের লড়াই। এ লড়াইটা সর্বব্যাপী। দেশের সেরা বুদ্ধিজীবীদের বেছে বেছে হত্যা করা হলেও থেমে থাকার উপায় নেই। সবাই ঝাঁপিয়ে পড়লেন দেশ গড়ার যুদ্ধে। আলী যাকের বেছে নিলেন মঞ্চ। বাংলাদেশের মঞ্চনাটক যে আজ বিশ্বের নজর কেড়েছে তার গোড়ার কুশিলবদের একজন আলী যাকের। বাঙালির মানস, রুচি গঠন, সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেম সঞ্চারিত করার কৃতিত্ব আলী যাকেরদের। আলী যাকের আসলে শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার এক দারুণ প্যাকেজ। মঞ্চে তিনি মহাপরাক্রমশালী অভিনেতা ও নির্দেশক-সংগঠক। টেলিভিশনে তুমুল জনপ্রিয়, ব্যবসায় দারুণ সফল। ভালোবাসতেন প্রকৃতি, চমৎকার ছবি তুলতেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ২১ বছর দেশ এক দীর্ঘ দুঃসময় পার করেছে। এই সময় জাতির জনক নিষিদ্ধ ছিলেন দেশে, স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রধানমন্ত্রীর আসন পর্যন্ত কলঙ্কিত করেছে। বিকৃত করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর ১৯৯২ সালে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে এক অসাধারণ আন্দোলন গড়ে ওঠে। এই আন্দোলনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটে। মহৎ এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে সেগুনবাগিচার একটি ভাড়া বাড়িতে যাত্রা শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের। আটজন মহৎপ্রাণ ট্রাস্টি গড়ে তোলেন জাতির এই শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান। সেগুনবাগিচার ভাড়া বাড়ি থেকে যে প্রতিষ্ঠান এখন আগারগাঁওয়ের নান্দনিক ভবনে জাতির আলোকবর্তিকা হয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আট ট্রাস্টির প্রথম নামটি ছিল আলী যাকের। করোনা কেড়ে নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের আরেক ট্রাস্টি জিয়াউদ্দিন তারেক আলীকে। গত বছর চলে গেছেন আরেক ট্রাস্টি স্থপতি ও কবি রবিউল হুসাইন। অল্প সময়ে তিন ট্রাস্টিকে হারিয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এখন শোকাতুর।


এমন একটা সময়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের যাওয়ার মিছিল লম্বা হচ্ছে, যখন জাতি এক মহাদুর্যোগের সময় পার করছে। উগ্র মৌলবাদীদের আস্ফালন আমাদের শঙ্কিত করছে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে মৌলবাদীদের এই ঔদ্ধত্য আমাদের শঙ্কাকে আতঙ্কে পরিণত করছে। মৌলবাদীদের প্রেসক্রিপশনে যখন বদলে যায় পাঠ্যসূচি, স্থানান্তরিত হয়ে যায় হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য; তখন বুঝি দেশ আসলে ভয়ঙ্কর এক দুঃসময় পার করছে। সরকার কৌশল বা আপসের পথ ধরে মৌলবাদীরা এখন মাথায় উঠেছে। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল একটি উদার, অসাম্প্রদায়িক, সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয়ে। লাই পেয়ে পেয়ে মৌলবাদীদের বাড় এতটাই বেড়েছে, তারা আজ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেয়ার হুমকি পর্যন্ত দিতে পারে।

এখন সময় রুখে দাঁড়ানোর। এই বাংলাদেশে মৌলবাদীদের আর এক ইঞ্চিও ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। রুখে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের সময়ই আমরা একে একে হারিয়ে ফেলছি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের; আমাদের মাথার ওপর ছায়া হয়ে, আমাদের ভরসা হয়ে ছিলেন যারা। আলী যাকের নেই; জাতির দুঃসময়ে, রুখে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে কে আর হাঁক দেবে- জাগো বাহে কুনঠে সবায়…।

আজ থেকে শুরু হচ্ছে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। ৩০ লাখ শহীদ আর দু’লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সাক্ষর এবারের বিজয়ের মাস করোনা আবাহর মধ্যেও নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পালিত হবে।

বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় এ মাসে।


বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূ-খণ্ড। আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।

বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হবার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর।

এ মাসেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল শামসদের সহযোগিতায় দেশের মেধা, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেয়ার এ ধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোন নজির বিশ্বে নেই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে।


এ বছরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ বলে স্বাধীনতার ডাক দেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আর জাতি অর্জন করে হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

৭১ এর ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি জল্লাদ বাহিনী নিরস্ত্র জনগণের উপর অতর্কিতে সশস্ত্র আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষ হত্যা করে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর এক অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়। বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হবার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তার ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চ রাতেই রাজারবাগ পুলিশ লাইনে সশস্র প্রতিরোধের সম্মুখীন হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র জনযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।


উজিরপুর প্রতিনিধি ঃ উজিরপুর পৌরসভায় ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৩০ নভেম্বর বিকাল ৫টা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী রির্টানিং অফিসার আলিমুদ্দীনের নিকট ১৩ জন কাউন্সিলর ও ৪ জন মহিলা সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ইতিমধ্যে ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর ও ১ নং প্যানেল মেয়র উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হেমায়েত উদ্দিনের পক্ষে তার সমর্থকরা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। একই ওয়ার্ডের গিয়াস উদ্দিন আকন, সোহেল হাওলাদার তার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ৩ নং ওয়ার্ডের মোঃ নাসির সিকদার, ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মামুন, নাসির উদ্দিন বালী, ৬ নং ওয়ার্ড থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মোঃ হাকিম সিকদার তার মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন এবং ৭ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মোঃ রিপন মোল্লা একক প্রার্থী হিসেবে তার মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক মোঃ খবির উদ্দিন হাওলাদার তার মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। ওই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর কাইয়ুম খান ও শিপন খান মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন । মহিলা সংরক্ষিত ১,২,৩ আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী শেখ আঁখি, ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী চলন্তিকা হালদার, বর্তমান কাউন্সিলর ছবি রানী নন্দী এবং ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী নিগার সুলতানা বকুল তার মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া ২৯ নভেম্বর ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমান কাউন্সিলর ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসীম ঘরামী এবং ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সমীর নন্দী, উপজেলা সহকারী রির্টানিং অফিসার আলিমুদ্দীন এর নিকট মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

জীবনের প্রথম নির্বাচনে নৌকা প্রতিক নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জয়ী হওয়া সেই মো: গিয়াস উদ্দিন বেপারী পুন:রায় নৌকা প্রতিক নিয়ে আওয়মী লীগের প্রার্থী হিসাবে বরিশাল জেলার উজিরপুর পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে ২৮ শে ডিসেম্বর ভোট যুদ্বে লড়বেন। দলের প্রধান ও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড তার উপর আস্থা রেখে ২৭ নভেম্বর শুক্রবার তাকে প্রাথী হিসাবে চুড়ান্ত করেছেন।

উজিরপুর উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এসএম জামাল হোসেন উজিরপুর পৌরসভার নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হিসাবে গিয়াসউদ্দিনের নাম চুডান্ত’র সত্যতা স্বীকার করেছেন তিনি আরো জানান দলের সভানেত্রী গিয়াসউদ্দিনকে দলের একক প্রার্থী চড়ান্ত করে নৌকা প্রতিকের চিঠি আমার হাতে তুলে দিয়েছেন।

উজিরপুর পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব গিয়াসউদ্দিন বেপারী উপজেলা আওয়মী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।তিনি দলের মনোনয়ন পাওয়ায় বিভিন্ন মহল তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।